Deshsangbad24
উ. কোরিয়ার যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে গোপন চুক্তি অস্বীকার, ইউক্রেনের কাছে ক্ষমার দাবি দ. কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অস্বীকার করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার ঘটনায় ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা ও ক্ষমা দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তার দেশ উত্তর কোরিয়ার দুই সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। তিনি বলেন, ওই দুই সেনাকে ‘জীবিত অবস্থায় আটক করা সহজ ছিল না।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইউক্রেন কেন চুক্তি ভঙ্গ করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল, তা আমি জানি না। তবে এ ঘটনায় আমি অত্যন্ত হতাশ।’

এর জবাবে জেলেনস্কির সহযোগী দিমিত্রো লিতভিন সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন একটি উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ দেশ। তাই ওই দুই সেনাকে গোপনে হস্তান্তর করা হলে সেটিই বরং অস্বাভাবিক হতো।

তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত। আমরা শুধু মূল বিষয়টি জানিয়েছি— ওই দুই সেনাকে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের জনসংযোগবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব সিওং গি-হং রোববার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে গোপনীয়তা রক্ষার যে চুক্তি ছিল, ইউক্রেন সেটি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেছে— এটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু গোপনীয়তা রক্ষার কোনো চুক্তি ছিল না— ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রেস অফিসের এমন মিথ্যা বক্তব্য দুই সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।’

সিওং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ইউক্রেনের কাছে ‘আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা’ দাবি করছে।

এ ঘটনায় প্রয়োজন হলে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

গত বছরের শুরুতে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধরত উত্তর কোরীয় সেনাদের মধ্যে দুইজনকে আটক করে ইউক্রেন।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, ওই দুই সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে ‘স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে’ চেয়েছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ায় বসবাসকারী ব্যক্তিসহ সব কোরীয় নাগরিককেই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনে আটক উত্তর কোরীয় সেনাদের ক্ষেত্রেও এই সাংবিধানিক বিধান প্রযোজ্য হবে।