Deshsangbad24
চুয়াডাঙ্গায় দাফন নিয়ে উত্তেজনা; আলোচনা শেষে কবরস্থ করা হলো সুবর্ণাকে

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়ার দক্ষিণপাড়া জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে এক নারীর মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গোরস্থান কমিটি ও মৃতের পরিবারের মধ্যে আলোচনা শেষে ধর্মীয় নিয়মে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

মৃত নারী সুবর্ণা আক্তার (২৯) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়ার দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মো. ওহিদ মোল্লা ও মোছা. পারভীন বেগমের মেয়ে এবং মো. পাভেল হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামীর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার ভাটই বাজার এলাকায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বামীর বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা। পরে তার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়, এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারা এলাকায় বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃতার মায়ের ইচ্ছানুযায়ী সুবর্ণার মরদেহ নিজ গ্রাম দৌলতদিয়া দক্ষিণপাড়ায় দাফনের জন্য আনা হয়। পরে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফনের অনুমতি চাইলে গোরস্থান কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃতের পরিবার কমিটির সদস্য নয়। সদস্যপদ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত কয়েক ধাপে মোট ২২ হাজার টাকা পরিশোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এ সময় এলাকার কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে মৃতের পরিবার ও গোরস্থান কমিটির মধ্যে আলোচনা শেষে পরিবারটি কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দৌলতদিয়ার দক্ষিণপাড়া জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী সুবর্ণা আক্তারের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।