গনমাধ্যম

কুষ্টিয়ার মিরপুর ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা সেতু ভোগান্তিতে ৩০ হাজার মানুষ

  admin2 ২ অক্টোবর ২০২২ , ১০:৫৪:২৯ 82

রাশিদুজ্জামান মিরপুর প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপরের নির্মিত ১০ নম্বর সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ।

সম্প্রতি একটি বালিবোঝাই ট্রলির চাপে সেতুটি ভেঙে যায়। এতে চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৪টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি মেরামত করা হবে বলে জানিয়েছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা যায়, ১৯৬৫ সালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া-কাদেরপুর এলাকায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে ৫৭ বছরের পুরোনো এই সেতুটি।

সর্বশেষে গত রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে বালিবোঝাই একটি ট্রলি সেতুটির ওপর উঠলে এর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। সেতুটি দ্রুত মেরামত না করলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় দুই বছর ধরে সেতুটির বেহাল দশা। বর্তমানে এটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী পয়ে পড়েছে। সবসময় গাড়ি চলাচল করে। ভয়ে থাকি কখন দুর্ঘটনা ঘটে! আর এবার তো ভেঙেই গেছে সেতুটি।

স্থানীয় ধুবইল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. বাবু আলী বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে এ সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। প্রায় ১০ বছর আগে স্থানীয়রা চাঁদা উঠিয়ে মেরামত করেছিল। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সেতুটি ভেঙে পড়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ব্রিজটির ওপর বাঁশের চরাট দিয়ে আংশিক চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। তবে এখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

ধুবইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান মামুন বলেন, বিভিন্ন সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সেতু নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো হয়েছে। তারা দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, জিকে পূর্ণবাসন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, এই প্রকল্প অনুমোদন হলে দীর্ঘ পরিসরে এই সেতুগুলো সংস্কার করা সম্ভব হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলায় জি কে প্রধান সেচ খালের ওপর ২০০ মিটারের ১২টি সেতু রয়েছে।

আরও খবর:

Sponsered content