Deshsangbad24

আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে ভাইদের সঙ্গে বিরোধ- দুই ভাইকে ফাঁসাতে আত্মগোপনের অভিযোগ

আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে ভাইদের সঙ্গে বিরোধ- দুই ভাইকে ফাঁসাতে আত্মগোপনের অভিযোগ

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের বটিয়াপাড়া গ্রামে পারিবারিক জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে তিন সহোদর ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ছোট ভাই বিপুল হোসেনের অভিযোগ, বড় ভাই বাবুল ও ছোট ভাই শিমুল তাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন এবং জমি দখলের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের দাবি, বিপুল নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিতা আব্দুর সাত্তারের তিন ছেলে বাবুল (৫৫), বিপুল (৪৭) ও শিমুল (৩০)। এছাড়া তিন বোনসহ মোট ২৭ বিঘা সম্পত্তি আলমডাঙ্গা থানার সালিসের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। সালিসে সবার অংশ নির্ধারিত হলেও বিপুলের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

বিপুলের গত কয়েক সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে পারিবারিক সম্পত্তির বিষয়গুলো দেখভাল করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন। তার ভাষ্য, বড় দুই ভাই মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে ফসলি জমি নষ্ট করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয়তার সূত্র ধরে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের পোস্ট অফিসের সামনে থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে দাবি করেন বিপুল। ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে দর্শনার হঠাৎপাড়া এলাকা থেকে তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে পোষ্ট অফিস এলাকার আশপাশের কয়েকজন দোকানদার জানান, ওই রাতে কাউকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা তারা দেখেননি।

আত্মগোপনের অভিযোগ
অভিযুক্ত বাবুল ও শিমুলের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, বিপুলকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। তাদের অভিযোগ, গত ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিপুল গোপনে ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সেখানে অপহরণের পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরে এসে রাতেই ঢাকায় যান বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকায় মহাখালী এলাকায় এক নারীর বাসায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিবারের একটি সূত্র জানায়, আত্মগোপনের সময় বিপুল তার ছেলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখেন।

অভিযুক্ত বাবুল ও শিমুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরেই পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে। আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে