Deshsangbad24

একমঞ্চে সব প্রার্থী, দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও জবাবদিহির অঙ্গীকার

ভোটের রাজনীতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ভোটারদের মুখোমুখি দাঁড়ালেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সব প্রার্থী। তারা এলাকার সাধারণ মানুষের সরাসরি জবাবদিহিতা করেন। Advertisement বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের মুক্তমঞ্চে সুজন জেলা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘জনগণের মুখোমুখি’ সংলাপে এক মঞ্চে দেখা যায় প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীকে। শীতের সকাল উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪৫০ জনের অধিক সাধারণ ভোটার এই সংলাপে অংশ নিয়ে প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা ও স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রার্থীরা কেবল নিজেদের ইশতেহারই তুলে ধরেননি, বরং দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী আগামীর চুয়াডাঙ্গা গড়ার ১৫ দফার এক কঠোর ‘অঙ্গীকারনামায়’ স্বাক্ষর করেছেন। সংলাপে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী একই মঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় ভোটারদের সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় প্রার্থীরা অঙ্গীকার করেন, তারা নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক এবং টেন্ডারবাজিমুক্ত একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন চুয়াডাঙ্গাকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি অঙ্গীকার করছি, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক এবং চাঁদাবাজমুক্ত এলাকায় পরিণত করব। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমি সংসদে সোচ্চার থাকব।’ জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘আমি আইনসভার মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকব। স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার প্রধান দায়িত্ব হবে। আমরা চাই একটি বৈষম্যহীন সমাজ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো উপড়ে ফেলাই হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী ‘আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনসেবার মানসিকতা নিয়ে নির্বাচনে এসেছি। নির্বাচিত হলে আমি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে কাজ করব। টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, বিজয়ী হই বা না হই, সবসময় জনগণের পাশে থাকব।’ সুজন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন সংগঠনের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটেটর সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, প্রবীণ সাংবাদিক আজাদ মালিতা এবং চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ।