1. admin@deshsangbad24.com : Ridoy Rayhan : Ridoy Rayhan
লেহাজ। লেখক - কমল খোন্দকার - দেশ সংবাদ ২৪
বিজ্ঞপ্তি :
দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজে একযোগে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। ০১৭১৩-৯২৩৫১০-০১৭১৩-১৩৯৬৭১
সংবাদ শিরোনাম :
মাত্র দেড় মাস বয়সের শিশুটি করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। ভেড়ামারা তে ২য় দিনের লকডাউন চলছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবক টিমের করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবার মুহূর্তগুলো আলহজ্ব রিকুল আলম চুনুকে ফুলেল শুভেচ্ছা সিক্ত মারা করলেন সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি চপল ভেড়ামারা রেল বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে শহরে মাস্ক বিতরণ বাঁচতে চান রিক্তা মাত্র ৩ ঘন্টায় অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে লাশ হস্তান্তর করেছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ কুষ্টিয়া জেলাব্যাপী কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আসছে রাত ১২ টা থেকে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ২য় পর্যায়ের ভার্চুয়াল শুভ উদ্বোধন করোনা আক্রান্তের হয়ে বাড়িতে লাল পতাকা লজ্জায় ঘৃণায় রোগী আত্মহত্যা

লেহাজ। লেখক – কমল খোন্দকার

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
  • ৪২ জ্ন দেখেছেন

‘ভিগি হুয়ি হ্যায় রাত মাগার জ্বাল রাহি হ্যায় হাম!
ছিনে লাগি বারসাত মাগার জ্বাল রাহি হ্যায় হাম–! ‘

ঝমঝম বৃষ্টির মধ্যে হিন্দি গান গাইতে গাইতে লেহাজের হাত পা ধরে লোফালুফি আর তার সাথে সাথে নুর-ই-দিল হুসনে জিগর দূর থেকে নাচতে নাচতে লংজাম্প দেয়ার ভঙ্গিতে ছুটে এসে এত জোরে জোরে ওর বুকে মুখে আছড়ে পড়ছে যে, লেহাজের মনে হচ্ছে, বিল থেকে সদ্য ডাঙায় তুলে আনা পনেরো কেজি ওজনের শক্তিশালী ধরণের একটা কাতলা মাছ যেনো ওর বুকের ওপর মুখের ওপর এসে ঘায় খাচ্ছে আর মাথা ঠুকছে তার তালেতালে।

আশ্বর্যের বিষয় হলো, ওর শরীরের সবগুলো হাড্ডিগুড্ডি ধরে হুসনে জিগারের এই কাড়াকাড়ি ছেঁড়াছিঁড়ি লন্ডভন্ড কান্ড কাহিনির মধ্যেও লজ্জা নামক ছ্যাবলা অনুভূতিটাকে এই প্রথম ওর ধারে কাছে খুঁজে পায় না লেহাজ। বরং শুধুমাত্র যে অনুভূতিটাকে টাচ করার জন্য নিজের লেহাজ নামটার সাথে এতদিন ধরে
যুদ্ধ দাঙ্গা কোস্তাকুস্তি লড়ে যাচ্ছে ও-তাতে সালমান শাহ আর শাবনুরের হুবহু এরকম একটা ঐতিহাসিক বৃষ্টি -নৃত্যের গানের দৃশ্যায়নের সাথে নিজেকে মিলিয়ে অনাস্বাদিত সেই অনুভূতিটাকে এই প্রথম এই বৃষ্টিঝরা প্রলয় তান্ডবের মধ্যে ধরতে পেরে হায়া লাজের লেবাস খুলে হুসনে দিলের গলা জড়িয়ে স্টেপ মিলিয়ে পার্টি ড্যান্সের প্রস্ততি নেয় লেহাজ!

অ মা! নুর-ই-দিল ওর পিঠের ওপর হঠাৎ এরকম জোরে জোরে ঢোলের বোল বাজানো শুরু করলো কেন? লেহাজের পিঠটাকে কী ঢোলের মতো দেখাচ্ছে নাকি ওর চোখে? পিঠের ওপর ঢোলের বাড়িটা লয় পাল্টে দ্রুতগামী হওয়ায় ধড়মড় করে লাফ দিয়ে উঠে বসে লেহাজ।

এ কী! বুড়ি! যৌবনের এই সর্বগ্রাসী তান্ডবলীলার মাঝখানে এখানে আবার বুড়ি এসে ভর হলো কোত্থেকে? বুড়ির চন্দ্রধনি বদনের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হতেই ‘চাচা আপনা জান বাঁচা’ বলে ওর মাথার ভেতর বজ্র হুংকার ছাড়লো কে যেনো! জানের মায়ায় বৃষ্টি- নত্তন, হুসনে দিল- সবকিছুর দয়া মোহ ছেড়ে ছুড়ে ওখান থেকে ঝেড়ে দৌড় দিয়ে পালাতে গিয়ে ছিটকে পড়ে একেবারে পাথুরে জমিতে ঘসা খেয়ে শেষ পর্যন্ত জ্ঞান ফিরে আসে লেহাজের। এতক্ষণ ধরে পাড়াপাড়ি গড়াগড়ি যা কিছু হয়েছে তার সবটাই যে স্বপ্নের মধ্যে মনে মনে কলা খাওয়া ছাড়া আর কিছুই না -মেঝেতে উল্টে পড়ে হাঁটুর হাড়ে ভয়ংকর রকমের এক হাড়ভাংগা চোট খেয়ে বুঝতে পারে লেহাজ।

হাঁটু ডলতে ডলতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করার আগেই দৌড়ে এসে ওর হাত ধরে মেঝে থেকে ওকে টেনে তোলে বুড়ি। বুড়ির হাত বেয়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বুড়ির হাতটা ভালোভাবে লক্ষ্য করে লেহাজ। ওরকম লাউ ডগার মতো পেলব মসৃণ হাতে ওর পিঠের ওপর ইনিই এতক্ষণ ধরে ঢোলের বোল তুলছিলেন তাহলে! কিন্তু বুড়ির হাতের বলও যে মুখের মতোই এরকম জোরদার –নিজের পিঠের ওপর তাল ফেলা ঘা না খেলে বিষয়টা অজানায় থেকে যেতো লেহাজের কাছে। তলেতলে বুড়ি কুম্ফু ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট হোল্ডার কিনা কে জানে!

মেঝে থেকে টেনে তুলে ওকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বুড়ি নিজেও বসে ওর পাশে। বুড়ির ইতিহাসের ফিতা ধরে দৌড়াতে দৌড়াতে মাঝ রাতের দিকে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলো ও, মনে করতে পারে না লেহাজ। ওর দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে ফিচেল হাসি দিতে দিতে জিজ্ঞেস করে বুড়ি, ‘বিছানা ছেড়ে ওরকম তড়াক করে লাফ দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিলি কোথায়? ‘

ভয়ে গলা বুক শুকিয়ে আসে লেহাজের। রাতে যে রূপ দেখেছে ও বুড়ির, তাতে করে ভরসা বা বিশ্বাস বলে কোন বস্তু আর যার প্রতিই হোক অন্তত এই বুড়ির প্রতি ধরে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ না মোটেও। স্বপ্নের মধ্যে নুর-ই দিলের সাথে ওর ধস্তাধস্তি লোফালুফি দেখে ফেলাটাও বুড়ির পক্ষে অসম্ভব কিছু বলে মনে হয় না ওর কাছে! সত্যিই যদি দেখে ফেলে! মনে হতেই ধুড়ুম করে হাই জাম্প দিয়ে শূণ্য উঠে ঝুলে থাকে ওর ধুকপুক ধুকপুক করে জ্বলতে নিভতে থাকা ক্ষীনকায় হার্টবিট টা। পিঠে বস্তা বাঁধা ছাড়া নিজের চোখের সামনে আর অন্য কোন পথ খোলা দেখতে পায় না লেহাজ। শুকনো গলায় ঢোক চিপতে চিপতে উপায়ান্তর না দেখে দোয়া ইউনুস পাঠ করা শুরু করে ও মনে মনে।

হঠাৎ বুড়ির বিষন্ন কন্ঠে চমকে উঠে বুড়ির মুখের দিকে তাকায় লেহাজ। নাহ্! এ বুড়িকে তো এবার আরেক গ্রহের বাসিন্দা বলে ভ্রম হচ্ছে এখন! বিষাদী দুঃখী বুড়িটা গুনগুন করছে আপন মনে-
‘শেষ রাত থেকে ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে আষাঢ়ে ঢল। উঠানে পা দেয়ার মতো অবস্থাটুকুও নাই আর। কয়দিন যে লেগে থাকবে এই বৃষ্টি -আল্লাহ জানেন! করোনায় এমনিতেই বেহাল দশা কৃষকের। দেশের খুব বড়সড় ক্ষতি হয়ে গ্যালো রে এই ঝড় আর বৃষ্টিটাতে! এক রাতের বৃষ্টিতেই ধানক্ষেত গুলো তলিয়ে গ্যাছে সব পানির নীচে। আমাদের বাগানের দু’ একটা আম ছাড়া এই কালবৈশাখীর সাপট মাটিতে গুড়িয়ে রেখে গ্যাছে বাকিগুলো! ঘরে যদি এক মুঠ ভাতও থাকতো তাও এই নিদান কালে লবন পানি মেখে সেটুকু খেয়ে অন্তত বাঁচতো মানুষ। কোথায় যে এর পরিণতি, বুঝতে পারছি না কিছুই-

শেষ রাতের ঝড়ের উছিলায় ইলেক্ট্রিসিটি পলাতক ছিলো তখন পর্যন্ত। নিভে থাকা বাল্ব জ্বলে উঠতেই কথা থামিয়ে লেহাজকে টিভি অন করার আদেশ দান করেন লেহাজের বিষন্ন বুড়ি।
‘দেশের পরিস্থিতিটা দেখি একটু। একমাত্র আল্লাহই জানেন কোথায় এর পরিণতি’!

টিভি অন করতেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে প্রধান মন্ত্রীর মুখ। করোনা আর ঝড় বৃষ্টিতে মানুষকে সচেতন করতে নিজের মুখের মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে আশা ভরসা আর তার সাথে দূর্নীতি রোধে পুনরায় তাঁর অনমনীয়, আপোষহীন অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক বার্তা ঘোষণা করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

বুড়ির বিষন্ন দুঃখী কন্ঠস্বরটা হঠাৎ হিসহিসানি বিড়বিড়ানি স্বগতোক্তিতে রূপান্তরিত রূপে ভেসে আসায় বুড়ির ভিন্ন ধাঁচের এই আরেক প্যাখনার ঝাড়ি খেয়ে আরেক দফা চমকে ওঠে বুড়ির দিকে তাকিয়ে হা হয়ে যায় লেহাজ।

‘তরুণ আর যুবকদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন একবার, ‘আমি মারা গেলে আমার কবরে একটা টিনের চোঙ্গা রেখে দিস। লোকে জানবে এই একটা লোক একটা টিনের চোঙ্গা হাতে নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলো আর সারাজীবন সেই টিনের চোঙ্গায় বাঙালি বাঙালি বলে চিৎকার করতে করতেই মারা গেলো! ‘
সপরিবারে নিজের জীবন বলিদানের মাধ্যমে এই সত্যিটার প্রমাণ দিয়ে গেছেন তিনি। সত্যি সত্যিই বাঙালি বাঙালি বলে চিৎকার করতে করতেই প্রাণ খুইয়েছেন সত্যিকারের বাংলা প্রেমিক মহৎ এই মানুষটি। তারপরেও এই জাতটার সাথে পেরে উঠেননি তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ পর্যন্ত। নীতিহীনতা, চৌর্যবৃত্তি, অসততা বিশ্বাসঘাতকতা এ জাতির রক্তে মেশানো। পুরো বিশ্ব যেখানে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ংকর আতংকে পার করছে প্রতিটা মুহূর্ত সেখানে কতটা দূর্নীতিবাজ আর নির্লজ্জ জাত হলে দিনে দুপুরে চুরি ডাকাতি করে দেশের হতদরিদ্র মানুষের মুখের গ্রাসটুকুও কেড়ে নিতে পারে বিশ্বে বিরল বেশরম এই বাঙালি জাতটা? এদের বিশ্ব বেহায়া বললে উল্টে বরং লজ্জায় নিজেরাই আত্মঘাতী হতে যাবে চিহ্নিত দাগী বিশ্ব বেহায়ারা। বিশ্ব বেহায়াদেরো ছাড়িয়ে গ্যাছে এরা বহু আগেই!
এদের চরিত্র দেখে ঘুরেফিরে বঙ্গবন্ধুর সেই খেদোক্তিটায় মনে পড়ে যায় বারবার। দেশ স্বাধীন করে এই নষ্ট চোরদের সাথে নিয়ে সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাঙালির এই চৌর্যবৃত্তি আর নীতিহীনতার হাতে পদে পদে ঠোকর খেতে খেতে অতিষ্ঠ বঙ্গবন্ধু ক্ষোভে দুঃখে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন , ‘দেশ স্বাধীন করলে সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি! আমার ডানে চোর, বাঁয়ে চোর, সামনে চোর, পিছনে চোর, চোর আর চোর! আমি বিদেশ থেকে যা কিছু আনি এই চোর চাটার দল সব খাইয়া ফেলায়। সাত কোটি মানুষের জন্য সাড়ে সাত কোটি কম্বল আনছি, অথচ আমি আমারটাও পেলাম না!’

বড়ই উদার কোমল আর ক্ষমাপ্রবণ মানুষ ছিলেন বিশ্ববরেণ্য তুলনাহীন নিকট আত্মীয়ের মতো আমাদের এই প্রাণের বঙ্গবন্ধু। প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন তিনি বিশ্বাসঘাতক নির্লজ্জ হারামি এই চোরের জাতটাকে। বঙ্গবন্ধু যে চিনতেন না এদের তা কিন্তু না। চিনতেন জন্যই বলতে পেরেছিলেন, ‘ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষ, সবচেয়ে বড় দূর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশি ভালোবাসি! ‘
আর ভালোবাসার কাছে তাঁর এই অক্ষম দুর্বলতার সুযোগেই তো পৃথিবীর ইতিহাসে একক সাক্ষী হিসেবে ঘোর অন্ধকার অমানিশার ঘৃন্যতম চিত্র বাঙালির অমোচনীয় কলংক হয়ে সেঁটে আছে আজো পৃথিবীর বুকে। মীর জাফরের বংশধরেরা হায়েনা কাল সাপ হবে -এতে আর অবাক হওয়ার এমন কী আছে! আম গাছে আমই ধরে সবসময় , আতা ফল ঝুলে থাকে না কখনো! ‘

ক্ষুব্ধ সাইজের বড় সড় আকৃতির একটা দীর্ঘশ্বাস বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে রিমোটটা তুলে নিয়ে নিজের হাতেই টিভি অফ করে দেয় বুড়ি। হিসহিসানি গর্জন মোলায়েম রূপ ধারণ করে এবার মাতৃরূপেনো ভয়েসে ঝরে পড়ে এসে লেহাজের বুকের ওপর। ভালোবাসা মিশ্রিত কোমল মৃদু স্বরে লেহাজকে ডেকে বলে, ‘ ব্যালা অনেক হয়েছে। ওঠ। মুখ হাত ধুয়ে নাস্তা সেরে নে। ওদিকের অবস্থাটা জেনে আসি একটু। রাতে শুনেছিলাম বিষ্টুর ছেলেটার জ্বর নাকি ছাড়েনি তখনো। ডাক্তার সাহেবের সাথে আবার কথা বলে দেখি কী বলেন উনি। খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে ছেলেটার জন্য।’

ধীর চরণে ঘর ছেড়ে যাওয়ার সময় বুড়ির দিকে তাকিয়ে চিরচেনা বুড়িটাকে আবারও ভীষণ অপরিচিত লাগে লেহাজের চোখে। বুড়ির ছত্রিশ কলার মাত্র এক কলাতেই পরিত্রাহি অবস্থা লেহাজের। বাকি পঁয়ত্রিশ কলা সমৃদ্ধ বহুরূপী এই বুড়িটার কলার হাতে পড়ে আর কত ভয়াল ভয়াল রূপের মুখোমুখি হওয়ার ভীতিকর অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে আছে হরবোলা এই জীবটার অনন্ত গুপ্ত ভান্ডারে, ভাবতে গিয়ে অন্যমনস্ক মনেই ফ্রেস হয়ে নাস্তার টেবিলে এসে বসে লেহাজ। সম্ভবত লেহাজের অপেক্ষাতেই চিন্তিত মুখে আরেকটা চেয়ার দখল করে গম্ভীর হয়ে বসে আছে বুড়ি। গুরুগম্ভীর পরিবেশটা হালকা করার উদ্দেশে বুড়ির দিকে তাকিয়ে বুড়ির সবচেয়ে প্রিয় হাসিটা এই মুহূর্তে বুড়িকে প্রেজেন্ট করে লেহাজ। হাসি জিইয়ে রেখেই বলে, ‘ তোর সাতকাহন কিন্তু শেষ করিসনাই এখনো। নাস্তা শেষে প্রস্তত থাকবি বাকিটা শোনানোর জন্য। এমনিতেই ‘ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে’ অবস্থা এখন। দুপুরে খিঁচুড়ি রান্না করতে বলবি মা কে। রবি নজরুল সব বাদ ছাদ আজ! আমার নিজস্ব ক্যাসেটটায় এখন বাজবে শুধুই আমার হিরোইনের লেহাজ নামকরণের নেপথ্যের সাতকাহনের ক্ল্যাসিক মিউজিক! অই বুড়ি! পেঁচার মতো ওরোম ধুম মেরে আছিস, ঘটনা কী?’

লেহাজের প্রশ্নে খানিকক্ষণ থম ধরে বসে থাকে লেহাজের হিরোইন। হঠাৎ লেহাজের চোখের মণি বরাবর তীক্ষ্ণ ফলার মতো দৃষ্টি হেনে জিজ্ঞাসা করে বুড়ি, ‘আচ্ছা, আপনজনদের কেউ আমাদের সাথে বেঈমানী করলে দুনিয়া ভরা এত মানুষ থাকতে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাচারা বিভীষণের ওপর গিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি কেন বলতো? কেন বলি ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ? ‘
বুড়ির চোখের তীব্র দৃষ্টিতে কেমন যেনো রহস্যময় দেখায় বুড়িকে। গতরাত থেকে হয়েছেটা কী বুড়ির? লেহাজের নাস্তা শেষ ততক্ষণে। কোন উত্তর না দিয়ে বুড়িকে পাঁজা কোলে করে এনে নিজের বিছানায় বসিয়ে বরাবরের মতো বুড়ির কোলের ওপর দাখিল হয়ে বুড়ির গলা জড়িয়ে আল্লাদের সুরে প্রশ্নটার জবাব দেয় লেহাজ।
‘আমার গুণবতী বিদ্যাবতী রূপে লক্ষ্মী জ্ঞানে সরস্বতী দেবী আমার হিয়ার মাঝে গাঁটছড়া বেঁধে বসে থাকা সত্ত্বেও আমার জানতে যাওয়ার ঠ্যাকা পড়েছে কোন আল্লাদে, বলো তো মেরে কলজের আধখানা রমনী? দয়া পরবশ হয়ে এই প্রশ্নটার জবাবও ওই সালমা আগা জবান হতেই নিঃসৃত হোক – আপনার গুলাবী শাহী রাঙা খানদানি চরণের দরবারে আবারো অধমের এই একান্ত একনিষ্ঠ নিবেদন মেরা গুলবদনী ধনি! দশভুজা তুল্য বিশ্বকোষরূপিনী নুরজাঁহা জী’ আমার সামনে অধিষ্ঠিত, অথচ এই আকাট নিরক্ষরটা তুচ্ছতম হলেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার কিঞ্চিৎ সুযোগ লাভে ধনী এবং ধন্য হতে বঞ্চিত -এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না এই অধমের জন্য! ‘
লেহাজের বিদঘুটে বিশেষণের খেতাবে আব্দারের ভঙ্গিতে বিগলিত ঢঙে ঝরে পড়া সুরে সকাল থেকে এই প্রথম বুড়ির প্রসন্ন বদন প্রত্যক্ষ করে এতক্ষণ ধরে বুকের মধ্যে চেপে রাখা দম বন্ধ পরিবেশটা হালকা করতে পেরে নিজের ভেতর এক ধরণের প্রশান্তি অনুভব করে লেহাজ। স্বভাবসুলভ হাতে ওর চুলে বিলি কাটারত সুচিত্রা রূপী বুড়িকে দেখে আবারো উত্তম রোগে আক্রান্ত হয় লেহাজ। কোলের ওপর গড়িয়ে কেবলই গান ধরার প্রস্তুতি নিতে যাবে, তার আগেই গজল বেজে ওঠে লেহাজের প্রিয় বুলবুলের স্বর্গ থেকে ঝরে পড়া তানপুরার সুমিষ্ট রাগিণীতে।

‘শোন, কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করে ইহজগতেই পাপের গুনাহগার শোধ দিয়ে যায় অনেকে। কিন্তু সত্যিকারের বেঈমান নষ্ট ক্রিমিনালেরা মৃত্যুর পরেও ইতিহাসে আর মানুষের মুখে মুখে বেঁচে থাকে মিথ্যুক, অসৎ, লোভী আর বিশ্বাসঘাতকতার উদাহরণ হয়ে। রাজ্য পরিচালনায় যোগ্য হয়ে ওঠার আগেই বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাবী হাতে পেয়ে পাপের মাশুল ভোগ করতে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন প্রেমিক খাসলতের সরল বিশ্বাসী তরলমতি অপরিনামদর্শী সিরাজ। এই নিষ্ঠুর নির্মম করুণ পরিণতি স্বীকার করে পৃথিবীর বুক থেকে অন্তত তাঁর পাপী আখ্যার সমাপ্তি টেনে গ্যাছেন তিনি তাঁর করুণ মৃত্যু বরণের সঙ্গে সঙ্গে। মৃত্যুর পরে কিন্তু জোর করেও কল্পনায় আনতে পারি না আমরা সিরাজুদ্দৌলার দুঃশ্চরিত্র নিষ্ঠুর প্রেমিক চেহারাটা! বরং কেমন যেনো সহানুভূতি আর ভালোবাসায় জড়িয়ে আমাদের অন্তরের কোমল জায়গাটা দখল করে আছে নামটা। সিরাজুদ্দৌলা নামটা স্মরণ হলেই কল্পনায় কেন যেনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে মৃত্যুর কাছে এতিম অসহায় ভিক্ষুকের চেয়েও নিঃস্ব একজন মানবেতররূপী মানুষের চিত্র- স্ত্রী পরিজন নিয়ে ভয়াবহ এই করুণ দুঃসময়ে দিকভ্রান্তের মতো ছুটছেন যিনি জান হাত করে। বাঁচার আশায় পরম আত্মীয় ভেবে খড় কুটোর মতো যাকেই আঁকড়ে ধরতে যাচ্ছেন সেই কাল সাপ হয়ে দংশন করছে তাঁকে-ঠিক কিনা বল? নিয়তির কাছে চূড়ান্ত রকমের অক্ষম অসহায় সিরাজ নিজের হাতে নিজেকে কোরবানি দেয়ার মতো করে নিজের জীবনের সমাপ্তি টেনে পুনরায় প্রমাণ দিয়ে গ্যাছেন, বাইরে থেকে আমদানি রপ্তানির প্রয়োজন পড়ে না এসব ঘাতকদের। বিভীষণ রূপি ঘরের আত্মীয়রায় বিশ্বাসঘাকতা আর টেনে ছিঁড়ে প্রাণ কেড়ে নেয়ায় যথেষ্ট রকমের পারঙ্গমতা দেখিয়ে এসেছে সব যুগের সব ধর্ম আর রাজনীতির ইতিহাসের পাতায় পাতায়।
অন্য দিকে মীরজাফর, মিরন, ঘষেটি বেগম, ক্লাইভ, মোহাম্মদি বেগ -এই নামগুলো চোখের সামনে এনে দেখ। দেখবি এরাই আবার আমাদের চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় সম্পূর্ণ বিপরীত রূপ ধরে। কখন কখন এই নামগুলো আমাদের মুখে আসে বলতো? মীর জাফর শব্দটা যেনো কোন মানুষের নামের মধ্যে পড়ে না। আপনা আপনিই যেনো বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিকে দাঁড়িয়ে গেছে মীর জাফর নামের মুসলিমদের এই কুলের কলংকটা! বিশ্বাস ঘাতককে এলাবোরেট করলে কী দাঁড়ায় বলতো? বিশ্বাস কে হত্যা করে যে! তাহলে হত্যাকারীকে কীভাবে মানুষ ভাবতে পারি আমরা- বল?

খারে দজ্জাল কুচক্রী মহিলাদের চরিত্রের সাথে তুলনা করতে গিয়ে অনায়াসে আমাদের জিভে চলে আসে যে নামটা,সেটা হলো ঘষেটি বেগম!

ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নামের যে নাটকীয় প্রহসনের খেলটা পলাশীর প্রান্তরে ঘটেছিলো সেদিন, তার নেপথ্যে ছিলো বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর এবং সাথে তার ধামাধরা অর্থ আর ক্ষমতালোভী পিশাচদের ওপর সিরাজের দুর্বল ক্ষমাপরায়ন অটল বিশ্বাস। নিজের কৃতকর্মের ফল বেশ ভালো ভাবেই ভোগ দখল করে পৃথিবী থেকে সিরাজ চির বিদায় নিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু যাদের প্রতি ক্ষমাশীলতা আর বিশ্বাস পোষণের দায়ে সিরাজুদ্দৌলার হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে দুইশ’ বছরের জন্য স্বাধীন বাংলার শেষ সূর্য অস্তমিত হয়েছিলো পলাশীর প্রান্তরে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নজীর কিন্তু একজনের জীবনেও ঘটেছে বলে সাক্ষ্য দেয়নি পৃথিবীর কোন ইতিহাসের পাতায়। কুষ্ঠ রোগে গলা পচা অবস্থায় শরীরের দুর্গন্ধে টিকতে না পেরে মানুষজন লোকালয় থেকে বহুদূরে নির্বাসন দিয়েছিলো পবিত্র পাক কালাম মাথায় নিয়ে নির্দ্বিধায় মিথ্যা শপথকারী এই নরপিশাচটাকে। সিরাজের চেয়েও কোটিগুণ যন্ত্রণায় জাত ধর্ম খুইয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিতে হয়েছে বিশ্বাসের হন্তাকারী মীর জাফর নামক মানুষরূপী এই খবিসটাকে! উন্মাদিনী ঘসেটি বেগম প্রাণ দিয়েছে বুড়ি গঙ্গার জলে নিজে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার মাধ্যমে। মতান্তরে, মিরনের আদেশে নৌকা ডুবির মাধ্যমে হত্যা করা হয় তাকে। যাই হোক, স্বাভাবিক মৃত্যু যে জোটেনি কপালে -এটুকু অন্তত নিশ্চিতভাবে বলা যায়! বাকিদের কেচ্ছা এই মুহূর্তে তোর না শুনলেও চলবে আপাতত।

এখন বিভীষণ কেন ঘরের শত্রু হলো, সে কাহিনি বলতে গেলে ‘সে এক বিরাট ইতিহাসের ‘মতো হয়ে যাবে ব্যাপারটা।
সংক্ষেপে বলি শোন। বিশ্রবা মুণির তিন রাক্ষস পুত্র হলো রাবন,বিভীষণ আর কুম্ভকর্ণ। সীতা দেবীকে কেন্দ্র করে রাম- রাবনের যুদ্ধের যে সূত্রপাত, সেখানে বিভীষণ নিজের ভাই রাবনের বিপক্ষে গিয়ে রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো রামের সাথে হাত মিলিয়ে। বিশ্রবা মুণির অভিষাপের ফসল ছিলো কৈকসীর এই তিন রাক্ষস পুত্র। কৈকসীর অনুরোধ উপরোধে খারাপ চরিত্রের তিন রাক্ষস সন্তানের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খারাপ ছিলো রাক্ষস বিভীষণের চরিত্র। রাম-রাবনের যুদ্ধে রাবণের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে বিভীষণের যুক্তি ছিলো, ধর্মের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সে। ধর্মের ধ্বজাধারী বিভীষণ ধর্মের পক্ষ অবলম্বন করেছে ভেবে মনে মনে সান্ত্বনা পেয়েছিলো হয়তো। তারপরেও সত্যি এটাই যে, শুধু তার এই স্বজনত্যাগী বিপক্ষচারী মনোভাবের কারণেই কিন্তু ছাইয়ে রূপান্তরিত হয়েছিলো সোনার লঙ্কা।

নিজেরা যতই খারাপ হই না কেন আমরা-এমনকি কোন দেবতাও যদি আমাদের পাপের দন্ড স্বরূপ কেড়ে নিতে আসে আমাদের আবাসস্থল-তখন ফরজ হয়ে দাঁড়ায় আমাদের সামনে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জৈবিক তাগাদা। তাই নিজেদের বাস্ত ভিটা রক্ষার জন্য হলেও ন্যায় নীতি ভুলে একাট্টা মনোভাব ধরে রাখা উচিত আমাদের নিজেদের মধ্যে। কথাতেই তো আছে, ‘আগে খেস তারপরে দরবেশ’! ঘরের কোণে মায়ের পেটের আপন ভাইকে অভূক্ত রেখে পুণ্যি কুড়ানোর আশায় বন বাদাড় ভেঙেচুরে খাড়া পর্বত বেয়ে পর্বতের চূড়ায় বসা পীর দরবেশের চরণ তলে সব ঢেলে ঢুলে যতই গড়াগড়ি লুটোপুটি খাও না কেন, ‘বাবা মন্টু! মা’র নামে ঘোড়ার কলা’!
ইরাণী গোলাপের মত সুচিত্রা দেবীর বৃদ্ধাঙ্গুলি দোলানোর ছন্দের সাথে সেই ইরানি ফ্লেভারের আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায় লেহাজের। বাক বন্ধ অবস্থায় দম আটকে ফ্রিজ রূপী লেহাজ কাঠ মেরে পড়ে থাকে বুড়ির কোলের ওপর।

বৃদ্ধাঙ্গুলী হেলন থামিয়ে সেতারের ঝংকার ওঠে এবার বুলবুলি সুরে।
‘লক্ষ্য করে দেখবি একমাত্র বাঙালি ছাড়া পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে সব দেশের সব দলগুলোর নীতি কিন্তু এক। অন্য আর সব নীতির ব্যালায় মতানৈক্য থাকলেও এই একটা নীতির কাছে এসে কিন্তু সব শেয়ালের এক ‘রা’! বাঙালিদের অবশ্য ততোটা দোষ দেয়া যায় না এ ব্যাপারে। আসলে গোড়াতেই গলদ এই জাতিটার। নিজস্ব কৃষ্টি কালচার বলে একটা জিনিস আছে প্রত্যেকটা জাতি বা উপজাতি -যাই বলি না কেন তাদের স্ব স্ব জাত বা ধর্ম অনুযায়ী। আমরা তাহলে এরকম আধা বাঙালি আধা ধার্মিক হতে গেলাম কোন দুঃখে বল তো? এর মূল কারণ হলো, বাঙালি আসলে বিশ্বের সব জাতি ধর্ম বর্ণের মিশ্রণে শংকর নামক এক অদ্ভুতুড়ে জাতির নাম। না ধর্মে, না কৃষ্টি কালচারে না চেহারায় -কোনখানেই নিজস্বতা বলতে কিছু নাই আমাদের। আচ্ছা, এই আমার চেহারাটার সাথেই সাধারণ বাঙালি চেহারার কোন সাদৃশ্য আছে কিনা খেয়াল করে দ্যাখ তো? একদম শিশু বয়স থেকেই নানান জনের মুখে নানান ধরনের মন্তব্য শুনতে শুনতে এখানে এসে ঠেকেছি আমি। স্বাভাবিক বাঙালি মেয়েদের তুলনায় হাতে বহরে ধিঙ্গি আমার হাইট দেখেই আগেই লাফ দিয়ে ওঠে মানুষ জন। কেউ বলে ইংরেজদের মতো চেহারা আমার, কেউ বলে ইরানি রমনীদের মতো সুন্দরী আমি-আবার আমার গায়ের গোলাপী রং আর চোখের মণি নীলচে দেখে অনেকেই সোফিয়া লোরেনের সাথে তুলনা করে আমাকে। আবার তোর মুখে তো রীতিমতো সুচিত্রা উপাধিতে ভূষিত আমি। ঠিক সেরকমই আমাদের কারো চেহারায় দেখবি পাশ্চাত্যের আদল, কেউ দেখতে আবার একেবারেই নিগ্রোদের মতো, কাউকে দেখলে মনে হবে পুরাই বৃটিশ, কারো চেহারায় মঙ্গোলিয়ান ধাঁচ, কেউ কেউ আবার হবহু প্রতিমার মতো দেখতে। তার মানে রক্তই আমাদের বহু মিশ্রিত। আর সমস্যা যত, সবের মূলেও দায়ী কিন্তু এই একটা কারণ।

যদি তাকাস ভালোভাবে তাহলেই দেখবি, এই করোনা নিয়েই চলছে কত চমকপ্রদ ফন্দি ফিকির আর ধান্ধাবাজির ভেল্কি খেলা। ধনী দরিদ্র, ক্ষমতাহীন ক্ষমতাবান বলে আলাদা করে চেনার উপায় নাই কাউকে। কত হরেক পদের বেহায়াপনার সার্কাস যে দ্যাখাচ্ছে এরা, যার নাগাল পেলে সত্যিকারের সার্কাস পার্টিরাও এদের চরণে পেন্নাম ঠুকতে ঠুকতে নিজেদের পেশা আসানির সাথে ভক্তি ভরে এদের হাতে তুলে দিয়ে দৌড়ে পালাবে ওরা নিজেদের জন্য আলাদা পেশা খুঁজে নিতে। হতদরিদ্রদের কীর্তিকলাপ দেখে যেমন ঘেন্না লাগে, ধনী আর ক্ষমতাধরদের নির্লজ্জতাও ঠিক ওই মাপেরই সমান জঘন্য আর দৃষ্টিকটু। নীতিহীন নির্লজ্জ জাত ফকিন্নি এই শ্রেণিটা করোনাকে পুঁজি করে লুটপাটের ব্যবসায় মত্ত উন্মাদ যেনো। সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এনজিও সহ বিভিন্ন তহবিল থেকে দূর্গতের জন্য যে সাহায্যগুলো হাতে পাচ্ছে এরা, তার ভাগ বখরা নিয়ে এদের কাড়াকাড়ি ছেঁড়াছিঁড়ি, হুটোপুটি পাল্লাপাল্লির মচ্ছব আর নিজেদের মধ্যে এদের দৌড় প্রতিযোগিতা দেখে ঘেন্নায় রি রি করে ওঠে সর্ব শরীর! এদিকে আবার এই সুযোগে বাজিমাত করতে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে বর্ণ চোরা হতদরিদ্র রূপি আরেক জাতের বাঙালি! এই জাতটার কান্নাকাটির অভিনয়ের কাছে এসে ভালো ভালো হলিউড বলিউড তারকারা পর্যন্ত মার খেয়ে যাবে রীতিমতো। এদের অভিনয় প্রতিভায় অভিভূত হয়ে যার কাছে গিয়েই লুটিয়ে পড়ছে এরা-দান খয়রাত করে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করছে এদের প্রত্যেকেই। এদের বানিজ্য প্রতিভাটা আবার কোন মাত্রার সেই কাহিনিটা শোন এখন। কাঁন্দোন রাজনীতিতে পটিয়শী এই শ্রেণিটা ভিক্ষা শিক্কা করে আদায় উসুল করছে যা, সেগুলো থেকে নিজেদের প্রয়োজন মাফিক ঘরে রেখে উদ্বৃত্তটা বিক্রি করতে যাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে- না খেয়ে মরে গেলেও ভিক্ষার জন্য হাত পাততে পারে না যারা অন্যের কাছে। করোনায় আসলে আসল বিপদে আছে নিম্ন আয়ের এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিটা। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিটাকেই আসলে সব দূর্যোগের প্রকৃত ভিক্টিম হতে হয় সবসময়ই। যাদের সাথে জন্ম দাগের মতো সেঁটে থাকে পেটের খিদে আর মুখের লাজ। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিটা নামেই তালপুকুর আসলে। এদের প্রকৃত বাস্তব চিত্রটা হলো, সমাজ সামাজিকতা, ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা, বাবা মা ভাই বোন সবার দায়িত্বের বোঝা কাঁধে পিঠে করে টেনে নিয়ে যেতে গিয়ে মাসের মাঝ পথে এসে ঘটি আর কিছুতেই ডোবে না এদের নিজেদের তাল পুকুরে।

অন্যদিকে ক্ষমতাবান বিত্তবানদের নির্লজ্জতাটা আবার চোখ পাতড়ে দেখার মতো জিনিস! দরিদ্রদের জন্য সরকার থেকে আসা চালের ট্রাক লুটপাটের কাহিনি তো পুরানো হতে চলেছে। কত সহস্র ট্রাক ভর্তি চালের ভাত হলে পেটের অসীম জ্বালা মিটবে এদের আর তার সঙ্গে দূর হবে এদের চিরদিনের ভাতের কষ্ট – গায়েবের মালিক আল্লাহ -তিনিই একমাত্র সম্যক অবগত এ সম্পর্কে ! নিজেদের অপকীর্তি ঢাকতে এরাই আবার মেতে উঠেছে আরেক নির্লজ্জতার খেলায়। প্রকৃত ক্ষুধার্তদের নিয়ে এদের করুণ উপহাস আর তামাশাটা আবার চোখ ঠিকরে উপভোগ করার মতো দৃশ্য বটে! এক মুঠ চাল ভিক্ষা দেয়ার জন্যও এদের গাড়ি বহর ধরে পতঙ্গের মত গাড়ি বহরের পেছন পেছন ধাওয়া করে ছোটে এদের নিজেদের পোষা লটবহর সাথে অবশ্যম্ভাবি মিডিয়া তো বলার অপেক্ষায় রাখে না! এইসব হাতেম তাঈগণ কঙ্কালসার কোন বৃদ্ধ বৃদ্ধাকে হাতের মুঠে করে এক মুঠ চাল দান করার সময়টাতেও ক্যামেরায় নিজেদের রূপের ছটা ঠিকঠাক মতো ফোকাস করছে কিনা সেই পোজ দিতে গিয়ে রীতিমতো ঘেমে নেয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা যাকে বলে! ঘর্মাক্ত কলেবরে কখন যে এদের হাতের মুঠির ফাঁক গলে চালটুকু ওই সব ভুখা নাঙাদের পেতে রাখা ছেঁড়া কাপড়ের ঝোলায় না পড়ে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে,সেটুকু ফোকাস করার মতো ক্যামেরাটা কিন্তু কারো হাতেই চোখে পড়ে না আমাদের। বরং সাথে ধাওয়াকারী চ্যালা চামুণ্ডা আর সাঙ্গোপাঙ্গরা কেউ চিৎ হয়ে, কেউ উল্টে পড়ে কেউ আবার কারো ঘাড়ের ওপর দিয়ে গলা লম্বা করে মাথা উঁচিয়ে মিডিয়ার ক্যামেরায় নিজেদের অনবদ্য বদন দেখাতে মরীয়া রীতিমতো। এই দৃশ্যগুলো দেখি যখন, আত্মগ্লানিতে আর ঘেন্নায় ঠেলে বমি উঠে আসতে চায় এই ভেবে যে, আমিও এদেরই একজন -বাঙালী যার পরিচয়!
ভাবছিস নিশ্চয়, এই যদি হয় প্রকৃত চিত্র তাহলে এই পরিস্থিতি সামলাবোই বা কীভাবে আর উঠে দাঁড়াবোই বা কেমন করে!
সবকিছুরই উল্টা পিঠ বলে একটা বস্তু আছে জানবি। অমাবশ্যার উল্টো পিঠে যেমন আছে পূর্ণিমা, রাতের উল্টো পিঠে লুকিয়ে থাকে যেমন পুবের সূর্যোদয়ের রক্তিম আলোর ছটার আশা- ঠিক তেমনি বিশ্বাসঘাতক, দুর্নীতিবাজ আর চোর ডাকাত বাঙালির বিপরীতে আছে আরেক জাতের বাঙালি- গৌরবান্বিত বিজয়ের গল্প গাথায় বিশ্ব সভায় বাংলাকে উপস্থাপন করেছেন যাঁরা বীরের জাতি রূপে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন এই বিজয়ী তালিকার শীর্ষ অবস্থানকারী আলোকবর্তিকা রূপী আলোকিত বাংলার প্রথম বাঙালির নাম! আবারো আমাদের ফিরে যেতে হবে ফের তাঁর আদর্শ আর নীতির কাছে, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘ যখন তুমি কোন ভদ্রলোকের সাথে খেলবে তখন তোমাকে ভদ্রলোক হতে হবে। যখন তুমি কোন বেজন্মার সাথে খেলবে তখন অবশ্যই তোমাকে তার চাইতেও বড় বেজন্মা হতে হবে, নচেত পরাজয় নিশ্চিত!’
ওই একই নীতি থেকে আবারো ঘুরেফিরে সেই বঙ্গবন্ধুকেই দেখতে পাই চোখের সামনে যেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্য -‘অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরষ রাজনীতি বিদদের সাথে কোনদিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশ সেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।’
আর এই বঙ্গবন্ধুর সারথি কিন্তু বেঁচে আছেন এখনো। এছাড়াও হয়তো আজো খুঁজলে পেতে পারি আমরা তাঁর আদর্শের উত্তরসূরীদের অনেককেই -যাঁরা হয়তো লোকচক্ষুর অন্তরালে অপেক্ষায় আছেন কোন একটা ডাকের আশায়!

বাঙালির আচরণিক বৈপরীত্যের মূলে শুরুতেই যে শংকর বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছিলাম না, সেখানে কিন্তু একবারো বলিনি, সৎ নীতিবান, বিবেকবান বাঙালি আর একজনো নেই আমাদের মধ্যে। ওই শংকর বৈশিষ্ট্যের ফলশ্রুতিতে সৎ, নীতিবান, বিবেকবান, মানবদরদী এমন অনেক বাঙালিই আছেন, এই অজানা মহামারী সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলার করতে এগিয়ে এসেছেন যাঁরা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান বাস্তবায়ন করতে। আর এরাই হলেন সেই সত্যিকারের সৎ নীতিবান রাজনীতিবিদ, মানবদরদী কলেজ, ভার্সিটির ছাত্র ছাত্রী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ডাক্তারী পেশার মূলমন্ত্রের কাছে দায়াবদ্ধ কিছু মানবতার কল্যাণে নিবেদিত ডাক্তার-স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে পৌঁছে যাচ্ছেন যাঁরা করোনা পীড়িত দূর্গতদের দ্বারে দ্বারে।
সুবিধাবাদী চরিত্র বা স্বার্থান্বেশী মনোভাবের ঊর্ধ্বে একটাই চরিত্র এদের- আর তা হলো ‘মানুষ ‘ চরিত্র! মরীয়া হয়ে ক্যামারায় সুরত বন্দী করার উদ্দেশে জীবনের ঝুঁকি নেন না তাঁরা। মানব কল্যাণে আত্ম নিবেদনই এদের একমাত্র ব্রত এবং স্বার্থ! আর বাংলার এই সোনার ধনদের জন্যেই আজো গর্ব করে বলতে পারি আমরা, বাঙালি আমি! বাংলা আমার জন্মভূমি! আমরাই সেই বীরের জাতি যারা মাথা নোয়ায়নি আজ পর্যন্ত কোন অন্যায়ের সামনেই! বাংলা মায়ের আমরাই সেই আবেগী তরুণ সাহসী সন্তান -ভাষার জন্য অবলীলায় বুকের তাজা রক্তে রঙিন করতে পেরেছি যারা পিচ ঢালা রাজপথ! স্বাধিকার আদায়ের জন্য কোন অস্ত্র ছাড়াই বাংলা জননীর বন্দী দশা ঘোঁচাতে শুধুমাত্র সাত মার্চে বাংলার অকুতোভয় অজেয় সন্তান বীর বাঙালি বঙ্গবন্ধুর, ‘ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- ‘ গর্জন শুনেই অগ্রপশ্চাৎ কোন কিছু না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়েছি আমরা একদম শূণ্য হাতে। দীর্ঘ নয় মাস ধরে পিশাচ হায়েনাদের পদদলিত, পদপিষ্ট করে মুক্ত করেছি বাংলা মা’কে! আমরাই সেই জাতি-মাথার ওপর শুধু রাহমানুর রাহিমের অসীম দয়া আর ভালোবাসার দূর্জেয় শক্তির অস্ত্র সম্বল করে বিজয়ী বেশে ফিরে এসেছি যারা সব দূর্যোগের সাথে যুদ্ধ শেষে! সেই বাঙালি জাতির দিকে তাকিয়ে সান্ত্বনা আর আঁকড়ে ধরার মতো অবলম্বন খুঁজে পেয়ে এখনো তাই শক্তি খুঁজে পাই মনের মধ্যে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইচ্ছা করেন যদি, হয়তো তাঁর মনোনীত বাছাইকৃত ভালোবাসার বাঙালিদের প্রার্থনা রত পবিত্র হাতের উছিলায় আবারো ফিরিয়ে দিতে পারেন তিনি আমাদের সেই আগের প্রাণবন্ত সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সবুজ বাংলা জননী কে! আলহামদুলিল্লাহ! আজ অবধি যখন মুখ ফিরিয়ে নেননি তিনি আমাদের দিক থেকে তখন আগামীতেও ইনশাআল্লাহ বিমুখ হবেন না তিনি-একমাত্র তাঁর তরফ থেকে আসা, তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন অজানা এই ভয়ংকর মহামারীর গজবের কাছে আমরা যারা একান্তই অসহায়, শক্তিশূণ্য, অক্ষম- একমাত্র তাঁরই মুখাপেক্ষী বাংলার সেই হতদরিদ্র সন্তানদের দিক থেকে’ !

শেষ দিকে এসে বুঁজে আসে লেহাজের সম্পূর্ণ অপরিচিত অদেখা সুচিত্রা, সোফিয়া লোরেন আর ইরানী গোলাপবালা -এই তিন ব্লেন্ডিংয়ের শংকর জাতের বুড়িটার আবেগ রুদ্ধ কন্ঠস্বর!

হাতের ফর্সা ধবধবে রুমালে চোখ মুখ মুছে গোলাপি আভার বুড়ি ওর বিস্মিত দিশেহারা মুখের ওপর হাসির জলপ্রপাত হয়ে ভেঙে পড়ে হঠাৎ! ওর অবাক টাস্কিতো মুখের ওপর জলপ্রপাত ঢালতে ঢালতে মুখ ঝুঁকিয়ে ফিসফিস করে বুড়ি, ‘তোর নাম লেহাজ রেখে কিন্তু একটুও ভুল করিনি আমি। ওই বলদা, আমার চোখ ফাঁকি দেয়া কী অতই সোজা মনে করিস ? বাপের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চোর ছুঁচোটা যে তুই, সেটা আর কেউ না বুঝলেও আমি কিন্তু ঠিকি আন্দাজ করতে পেরেছিলাম, ওটা তুই ছাড়া আর কেউ হতেই পারে না!

বিষ্টুর ছেলের ওষুধগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্য শিপনকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম গতকাল। ওর কাছে থেকেই শুনলাম, নিজেদের উদ্যেগে তোরা নাকি একটা ফান্ড খুলেছিস করোনা দূর্গতদের জন্য। দূর্গতদের তালিকাও তৈরি করেছিস শুনলাম। শিপনই বললো, ওরা নাকি সত্যিকারের করোনা পীড়িতদের সাহায্য করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার আর জীবাণুনাশকগুলো পৌঁছে দিচ্ছে লক ডাউন করা বাড়িগুলোতে নিজেরা উপস্থিত থেকে। এটাও শুনলাম, তোকে বেরোতে দিই না বলে ওরাই নাকি এসে গোপনে টাকা নিয়ে যায় তোর কাছে থেকে। এখন বল, ছিঁচকে চোরটাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে হাতকড়া পরাতে সক্ষম হয়েছি কিনা!

তোর নামের সবচেয়ে বড় সার্থকতা কোথায় জানিস? বাপ চাচাদের নির্লজ্জ হায়াপট্টিহীন লম্পট চরিত্রটা তোর রক্ত পর্যন্ত এসে থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছে শুধু এই নামটা রক্ষাকবচের মতো তোকে সুরক্ষিত রেখেছে বলে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পাহাড় শৃঙ্গ হয়ে সব নীতিহীনতা, বেহায়াপনা অমানবিকতার মাঝখানে ব্যারিকেড হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শুধুমাত্র তোর এই লেহাজ নামটা!
আর কিছু শুনতে চাস?
চুপ হয়ে আছিস যে?
লেহাজ নামের নেপথ্যের এই সাতকাহনটা নিশ্চয়ই এখন পরিষ্কার তোর কাছে?

লেহাজের নির্বাক হতভম্ব মুখটা পদ্ম পাতার মতো অঞ্জলির মাঝখানে তুলে ধরে আদরে সোহাগে ওর মুখটা ভিজিয়ে দিতে দিতে বুড়ির ফিসফিসানিটা অস্পষ্ট প্রেম-রাগিনীর মতো ঝরে পড়ে ওর অস্বচ্ছ চেতনার ওপর, ‘করোনাটা বিদায় হতে দে। নিয়ত করেছি ইনশাআল্লাহ তোর আর তোর নুর-ই-দিল হুসনে জিগরের দুই হাত এক করে দেবো এই সামনে আশ্বিনেই! আমার আপন নাত বউটাকে না দেখেই আমি তোর কলজে থেকে বিদায় নেবো- ভাবলি কী করে তুই?
ফোনে মেয়েটার সে কী কান্নাকাটি! তুই নাকি তোর হাতটাও ছুঁতে দিস না ওকে? আদব লেহাজ থাকবে আদব লেহাজের জায়গায় -তাই বলে ভালোবাসার জায়গায়টাতেও ছোঁয়াছুঁয়ির বাছবিচার মেনে চলতে বলেছি নাকি তোকে? তোর এই ছুতমার্গ শুচিবাই রোগের কাহিনি শুনে আমিই তো এখন রীতিমতো ভয় পাচ্ছি তোকে নিয়ে! হাঁদারাম কোথাকার! তোদের বাসর রাতের হেরেমটাকে আদব লেহাজ আর ভয় থেকে মুক্ত রাখতে আমাকেই না শেষ পর্যন্ত খোজা প্রহরী সেজে বসে থাকতে হয় হেরেমের দরজায়–হা হা হা–

আচ্ছা, তোর এই বিশ্রী পচা নামটা রাখার দায়ে পাপের শাস্তি স্বরূপ তোর জন্য এটুকু করতে আপত্তি করবো না -কথা দিলাম যাহ্ –হা হা হা –‘

# আলহামদুলিল্লাহ! অবশেষে বাঁচলাম এই নাছোড়বান্দা লেহাজের হাত থেকে!

কিছু বাড়তি কথা না বলে থাকতে পারছি না আসলে। সবসময়ই গভীর বিশ্বাস এবং উপলব্ধি থেকে বলে থাকি আমি, আবেগের জায়গায় মা মাতৃভূমি মাতৃভাষা সমান আমার দৃষ্টিতে! কিছু ঋণ প্রাণ দিয়েও শোধ করা যায় না কখনো। এরকমই ঋণ আমার মা, মাটি আর মায়ের ভাষার কাছে। সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া শুধু লেহাজ নামটা দিয়ে শুরু করেছিলাম লেখাটা। সুদূর অতীতেও কল্পনা করিনি, লেখাটা এরকম আসমান জমিন স্বর্গ মর্ত্য পাতাল ভুতল ছায়ের করিয়ে ছাড়বে আমাকে। পরিতৃপ্তি শুধু এটুকুই -যে মা মাটি আর ভাষার কাছে চিরঋণী আমি -এই লেখাটার মাধ্যমে অতি কিঞ্চিত হলেও সেই অসীম ঋণের কিছুটা অন্তত মওকুফ করতে পেরেছি মনে হয়। আলহামদুলিল্লাহ! অশেষ কৃতজ্ঞতা আমার স্রষ্টার প্রতি, যিনি আমাকে লেখার এই অতি ক্ষুদ্র শক্তিটুকু দান করে চিরকালের মতো তাঁর শোকর আদায়ের বোধটুকু জাগ্রত রেখে অনন্ত দয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছেন আমাকে! আলহামদুলিল্লাহ!
সবসময়ই বলে থাকি আমি, লাইক কমেন্টের আশা থাকলে এই দৈর্ঘের লেখা ফেসবুকে অন্তত কখনোই পোস্ট দিতাম না আমি।
তারপরেও দি’, কারণ ফেসবুক না থাকলে বোধহয় এতদিনে লেখালেখির পাট চুকে যেতো আমার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 20121 deshsangbad24.com

প্রযুক্তি সহায়তায় : একাতন্ময় হোস্ট বিডি