ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল সহজে শনাক্ত করতে সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসংবলিত প্লেট বসানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মাপ, রং ও উপকরণ অনুসরণ করে এ নম্বর প্লেট লাগাতে হবে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআরটিএর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, মোটরসাইকেলের পেছনে অনুমোদিত আরএফআইডিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব প্লেটে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি সামনের অংশেও নম্বর প্লেট প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নম্বর প্লেটের মাপ ও তৈরির নিয়ম
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হতে হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার।
উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে। প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা লিখতে হবে কালো রঙে। ব্যবহার করতে হবে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা। প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা নকশা রাখা যাবে না।
স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর একটি আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। তবে সব ক্ষেত্রেই নির্ধারিত মাপ ও অন্যান্য শর্ত অনুসরণ করতে হবে।
কেন সামনে নম্বর প্লেট বসানোর সিদ্ধান্ত?
ঢাকার বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরায় মোটরসাইকেলের নম্বর সহজে শনাক্ত করতেই সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিআরটিএকে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। এআইভিত্তিক ক্যামেরা ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা দেওয়া হয়।
সামনে প্লেট বসানো নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান মডেলের অনেক মোটরসাইকেলে সামনে নম্বর প্লেট বসানোর নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ফলে প্লেট লাগাতে মোটরসাইকেলের কাঠামো বা নকশায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এ ছাড়া বেশি গতিতে চলার সময় বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি, মোটরসাইকেলের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণে প্রভাব এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কাও তুলেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিষয়টি পরীক্ষা করে মতামত দিতে গত ১৩ আগস্ট সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিআরটিএ। কমিটিকে নম্বর প্লেটের আকার, সংযোজনের স্থান এবং এআই ক্যামেরায় সেটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
কমিটিতে বিআরটিএ, ডিএমপি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট), অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং মোটরসাইকেল উৎপাদন ও আমদানিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
উত্তরা মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে মোটরসাইকেলে সামনে ও পেছনে দুটি নম্বর প্লেট বসাতে হবে। তবে কোন আকৃতি বা সাইজে এসব নম্বর প্লেট হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি।’
দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল প্রায় ৫০ লাখ
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭০টি। বছরে প্রায় পাঁচ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। তবে রাস্তায় চলাচলকারী সব মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বসাতে হবে, নাকি শুধু নতুন মোটরসাইকেলে এ নিয়ম কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
দেশে অনেক মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নেই। আবার নিবন্ধিত কিছু মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট নষ্ট বা অস্পষ্ট। কেউ কেউ নম্বর প্লেট ঢেকে কিংবা আড়াল করে চলাচল করেন। এসব ক্ষেত্রে সামনের নম্বর প্লেট কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।