রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আন্তরিক নন বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলেনস্কি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

রোববার মার্কিন কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর সেন্ট পিটার্সবার্গে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ আটকে দেওয়া এবং মস্কোর সঙ্গে ডিজেলসংক্রান্ত চুক্তি করার পর ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বিরোধ আরও বেড়েছে। এতে কিয়েভ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, হোয়াইট হাউস হয়তো মস্কোর প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে সেখানে জেলেনস্কিকে রাখার প্রস্তাব দেননি। এ খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এতে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হচ্ছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘জেলেনস্কির এতে কিছু যায় আসে না। সত্যি বলতে, ইউরোপ যে বিপুল অর্থ তাকে দিচ্ছে, তারপরও তিনি এই যুদ্ধের অবসান চান না। সম্ভবত তিনি কখনোই তা চাননি।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘জেলেনস্কি রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। তিনি জানেন, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

এর আগে উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের সঙ্গে আলোচনার পর জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে তার মতে, ‘এটা স্পষ্ট যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যা আমাদের সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতেই হবে।’

ইউক্রেন গঠনমূলক ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা আমাদের সব অংশীদারের কাছ থেকেই ঠিক এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আশা করি—ইউরোপীয়দের কাছ থেকে এবং অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও।’

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানান তিনি। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে কিয়েভ।

এর আগে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন যদি আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়াকে সমর্থন করে, তবে তা হবে ‘ঐতিহাসিক ভুল’। ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান শুরু করায় কৃতজ্ঞতা জানান জেলেনস্কি। এর আগে কিছু সময়ের জন্য এ সহযোগিতা বন্ধ থাকায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল।