আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাকের পার্টির উদ্যোগে “শান্তি সমাবেশ” অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সমাবেশ থেকে এলাকার উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনে অংশ নেয়া চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের তিন প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মুক্তমঞ্চে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকা তিন প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী রুহুল আমিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব।
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোক না কেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে গিয়ে মানুষের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষি ও সম্ভাবনাময় জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে পিছিয়ে রয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সকল রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের নিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। সহিংস রাজনীতি নয়, তারা উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা জরুরি।
তিনি আরও বলেন,কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাকের পার্টির জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ খান যুবরাজ ও কেন্দ্রীয় পরিষদ জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের সহ- সাংগঠনিক সম্পাদকমোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া।
সমাবেশে জাকের পার্টির নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।