আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কালচারাল উইক-নবযাত্রা’। চিকিৎসাবিজ্ঞানের কঠোর পাঠক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সদস্য প্রফেসর ডা. মাহফুজা জেসমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক হাসপাতালের পরিচালক ও সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রফেসর ডা. মো. মিজানুর রহমান খান। এ সময় কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, অনুষদ সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একক সংগীতে পরিবেশিত হয় ‘রাজহীন রাজ্য’ ও ‘মায়াবন বিহারিণী’। আবৃত্তি পর্বে পরিবেশিত হয় ‘কেউ কথা রাখেনি’ এবং ‘কারণ আমি একজন মেয়ে’। পাশাপাশি ‘তারে বলে দিও সে যেন আসে না’ গানের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর দ্বৈত সংগীত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে ছিল রূপালী ম্যাডামের একক সংগীত, ‘কফি হাউজের আড্ডা’ শিরোনামে কমেডি কোরাস, আকর্ষণীয় কমেডি নাটক, নান্দনিক প্রাইজ ড্যান্স, ফ্যাশন শো, ফ্যাশন ফটোসেশন এবং রোমাঞ্চকর র্যাফেল ড্র। প্রতিটি পরিবেশনাই দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
সাংস্কৃতিক পর্বের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি ও সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. মাহফুজা জেসমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের এই সময়টা আমিও একদিন পার করেছি। তোমাদের আনন্দ দেখে আমার শিক্ষাজীবনের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তোমরা শুধু দক্ষ চিকিৎসকই নয়, মানবিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। মহান আল্লাহ তোমাদের সফলতা দান করুন।”
হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “চিকিৎসা একটি মহান ও মানবসেবামূলক পেশা। জীবনের প্রতিটি ধাপে তোমরা এই পেশার গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করবে। তোমরা জীবনে অনেক বড় হও এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করো—মহান আল্লাহর কাছে এটাই আমার প্রার্থনা।”
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রফেসর ডা. মো. মিজানুর রহমান খান আয়োজক ও শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসাবিদ্যার মতো ব্যস্ত ও কঠিন পড়াশোনার মাঝেও শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নান্দনিকভাবে এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন করেছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের সৃজনশীল ও আনন্দঘন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সৃজনশীল চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।