Deshsangbad24

হাসানাতের বাড়ি ছিল ক্ষমতার প্রতীক, সেই প্রাসাদে এখন শিয়াল-কুকুরের বাস

আওয়ামী লীগ আমলে বরিশালের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার প্রাসাদসম সেরনিয়াবাত ভবন থেকেই তখন পুরো দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার আওয়ামী রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো। এই ভবনের বাসিন্দাদের সাক্ষাৎ পেতে দলটির নেতা-কর্মীদের অপেক্ষা করতে হতো সপ্তাহ বা মাসজুড়ে।

কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানে এই বাড়িতে এখন সন্ধ্যাবাতি জ্বালানোর মতো মানুষও নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণরোষের শিকার হয় বাড়িটি। হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর এক্সকেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নগরীর কালীবাড়ি রোডের এই ভবন।

এরপর থেকে ভাঙা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে বাড়িটি। দেওয়ালে জন্মেছে আগাছা, ছেয়ে গেছে শ্যাওলায়। একসময়ের ক্ষমতার প্রাসাদ এখন শিয়াল-কুকুরের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

আশপাশের বাসিন্দারা বলেন, ‘এটা এখন তাদের (কুকুর) স্থায়ী নিবাস। রাতে শিয়ালও আসে।’

বরিশাল নগরে আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমু, জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাহিদ ফারুক শামিমসহ আরও অনেক নেতার বাড়ি থাকলেও সেরনিয়াবাত ভবনের মতো এত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি কোনোটি। অন্য নেতাদের বাড়ি দেখভালের লোক থাকলেও এই ভবনের আগাছা পরিষ্কার করার মতো লোকও নেই।

ষাটের দশকে বরিশালের কালীবাড়ি রোডে একটি টিন-কাঠ আর গোলপাতার ঘর ছিল। এটি ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসস্থান। ঘরের সামনে গোলপাতার ছাউনির একটি ছোট চেম্বার ছিল, যেখানে তিনি আইন পেশার কাজ করতেন।

১৯৭৩ সালে বরিশাল পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হন রব সেরনিয়াবাতের বড় ছেলে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। পৌর চেয়ারম্যান হওয়ার পর সেই জায়গায় দোতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। এই বাড়িই পরে সেরনিয়াবাত ভবন নামে পরিচিতি পায়।

১৫ আগস্ট রব সেরনিয়াবাতের মৃত্যুর পর বরিশাল আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পড়ে হাসানাতের কাঁধে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে হাসানাতকে করা হয় সংসদের চিফ হুইপ। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও ভারতে পালিয়ে যান হাসানাত। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর প্রথমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং পরে পার্বত্য শান্তিচুক্তিবিষয়ক কমিটির সভাপতি করা হয় তাকে।

এই সময়ের মধ্যে রাজনীতিতে নাম লেখান হাসানাতের বড় ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার পাশাপাশি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও হন তিনি। বাবার পর ছেলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুও হয়ে ওঠে সেরনিয়াবাত ভবন। নগর ভবনে না গিয়ে এই ভবন থেকেই সিটি করপোরেশনের যাবতীয় কার্যক্রম চালাতেন সাদিক।