1. admin@deshsangbad24.com : Ridoy Rayhan : Ridoy Rayhan
ছোট গল্প | লেখক : কমল খোন্দকার - দেশ সংবাদ ২৪
বিজ্ঞপ্তি :
দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজে একযোগে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। ০১৭১৩-৯২৩৫১০-০১৭১৩-১৩৯৬৭১
সংবাদ শিরোনাম :
মাত্র দেড় মাস বয়সের শিশুটি করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। ভেড়ামারা তে ২য় দিনের লকডাউন চলছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবক টিমের করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবার মুহূর্তগুলো আলহজ্ব রিকুল আলম চুনুকে ফুলেল শুভেচ্ছা সিক্ত মারা করলেন সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি চপল ভেড়ামারা রেল বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে শহরে মাস্ক বিতরণ বাঁচতে চান রিক্তা মাত্র ৩ ঘন্টায় অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে লাশ হস্তান্তর করেছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ কুষ্টিয়া জেলাব্যাপী কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আসছে রাত ১২ টা থেকে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ২য় পর্যায়ের ভার্চুয়াল শুভ উদ্বোধন করোনা আক্রান্তের হয়ে বাড়িতে লাল পতাকা লজ্জায় ঘৃণায় রোগী আত্মহত্যা

ছোট গল্প | লেখক : কমল খোন্দকার

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ২৫ জ্ন দেখেছেন

লেহাজ -(১)

নিজের লেহাজ নামটার জন্য সবসময়ই বড়ই দূর্বিপাকে আর শরমিন্দায় পড়তে হয় লেহাজকে। এরকম অদ্ভুত টাইপের নাম কে রেখেছিল , জানতে গিয়ে মায়ের কাছে থেকে শুনেছে ও, ওর দাদীজান রেখেছিলেন নামটা।

এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে বুড়ি ছড়ি ঘোরায় বাড়ির সকলের মাথার ওপর। লেহাজের সাথে অবশ্য ঠাট্টা তামাশার সম্পর্কটাই বেশি। মাঝে মাঝে লেহাজের মাথাটাও যে একেবারেই বুড়ির ছড়ির লক্ষ্যবস্তুর আওতার বাইরে থাকে, তা কিন্তু না। কিন্তু প্রতিবারই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ব্যর্থ হৃদয়ে লেহাজের মাথার লক্ষ্যকেন্দ্র থেকে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে উল্টে নিজেই মরমে মরে মাটির বুকে লজ্জা লুকাতে বাধ্য হয় বুড়ির স্বৈরাচারী বেলাজ ছড়িটা! বাড়ির কারো পক্ষেই সম্ভব না যা, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে বুড়ির হাত থেকে এক টানে ছড়ি কেড়ে নিয়ে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এসে বুড়ির মুখোমুখি বসে শীতকালে গাছি যেমন করে খেজুর গাছ ঝোড়ে ঠিক সেরকমভাবে বুড়ির হায়া পট্টিহীন ছড়িটার বাকল খুলে ছাড়ে লেহাজ।

সেদিন নিজের ক্রাশের মুখে ওর নাম নিয়ে যাচ্ছেতাই রকমের প্যাঁদানি খেয়ে রাগ দুঃখের বদহজমে ফোলা ফাঁপা হৃদয় হাতে করে বুড়িকে রাম ধুলাই করতে রাম ধুনুরির বেশে বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকে কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা এসে বসেছিলো ও বুড়ির খাস মহলে। বাহারি পানবাটা থেকে তখন খুসবু ছড়ানো শতেক পদের সুগন্ধি মসলা আর জর্দার ডালি ছড়িয়ে পান সাজার প্রস্তুতি নিতে হাত পা এলিয়ে বসেছে বুড়ি। বুড়ির সামনে থেকে চিলের মতো ছোঁ মেরে পানবাটাটা নিজের পেছনে লুকিয়ে রেখে বুড়ির মাথা জেঁতে বজ্রপাত ভাঙা শুরু করলো লেহাজ, ‘ অই বুড়ি! দেশ দুনিয়ায় আর নাম খুঁজে পাসনি? আমার নাম লেহাজ রাখতে তোর কোন পরদাদা পায়ে পড়েছিল তোর? ‘

লেহাজের বজ্রসহ বিদ্যুৎপতন নিতান্তই সাদামাটা বিদ্যুৎহীন নিরীহ গোছের মেঘের একটা গুড়ুম শব্দ করে পড়লো বুড়ির আশি মাইলেরও অনেকটা দূরে গিয়ে। টুকটুকে ফর্সা মুখে সব শ্রেণি পেশা বয়সের পুরুষ জাতির মাথায় জ্বলুনি ধরানো চমৎকার এক টুকরো ক্যাটরিনা ধাঁচের হাসি উপহার দিতে দিতে নির্বিকার হাতে লেহাজের পেছন থেকে পানের বাটাটা নিজের কাছে টেনে নিয়ে অনেকটা সময় ধরে টিপটিপে হাতে যত্ন সহকারে পান সেজে আয়েশের সাথে মুখে চালান করে শৈল্পিক ভঙ্গিতে পান চিবানো শুরু করলো বুড়ি। বুড়ির কর্মকান্ড, হাসির ছিরিছাঁদ দেখতে দেখতে ওই অবস্থাতেও মুগ্ধ দৃষ্টিতে লেহাজ তাকিয়ে থাকতে বাধ্য হলো বুড়ির দিকে। আবারো বুঝলো, দাদাজান কেন এই খারে খান্নাসটার সব গর্জন তর্জন মুখ বুঁজে হজম করে মাথা ঝুঁকিয়ে, ‘জো হুকুম মেরে জোহরা জাবীনজী’- ঢংয়ে সমঝে চলে বুড়িকে। এই বয়সেই যদি লেহাজের মাথার অগ্নিদাহ আর পেরেশানগ্রস্ত হৃদয়ঘরে প্লেটোনিক প্রেমের জমজমাট রোশনায়ে আট দশটা ঝাড়বাতির আলো বিকিরণ করা হাসির মাতমে থামিয়ে দিতে পারে ওর ওই পরিমাণ হৃদয় হুতাশন, তাহলে যৌবনে কোন মাত্রার দামিনী ঝিলিকধারি গোত্রের জিনিস ছিলো বুড়ি, ভাবতে গিয়ে গা হাত পা অবশ হয়ে থরথরানি আবেগে রীতিমতো নিজেকে ডিপথেরিয়া পেশেন্ট মনে হয়েছিলো লেহাজের।

সেদিনের সেই কাহিনির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আজও। ওর ক্রাশ নূর-ই-দিল হুসনে জিগারের হাতে মুখে আরেকবার ঢক মতো কাচাকুচি খেয়ে ভগ্ন ফর্সা হৃদয় আর তালা ঝোলানো মুখ নিয়ে আজো আবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে লেহাজকে। কেনো এই নূরের ছটায় দ্বীপ্ত নামটাকে কানা ছেলের পদ্মলোচনের মতো সর্বনেশে হাল করে ছাড়লো ও নিজের হাতে -সেই খেদে রাগে দুঃখে মাথার চুলগুলো ওই হাত দিয়েই জিলেট ব্লেডে চেঁছেছুলে বেলের মতো চকচকে টাক বানাতে ইচ্ছা করছে ওর নিজের মাথাটাকে।

তিন রাত বিনিদ্র যাপনের পর ভালোবেসে ডাকার জন্য এই নামটাকে শেষ পর্যন্ত পছন্দসই মনে হয়েছিলো লেহাজের। ওর আসল নাম খাদিজাতুল কোবরা নামটা নাম হিসেবে যদিও অনেক সুন্দর তারপরেও খাদিজাতুল কোবরা মুখে আনতে গিয়ে প্রতিবারই কেমন যেনো আড়ষ্ট হয়ে আসতো ওর জিব! মার্কেটে একবার ‘কোবরা’ নামের একটা পারফিউম দেখে একরকম কৌতুহলি হয়েই পারফিউমটা কিনে এনেছিলো লেহাজ। পারফিউমটা মাত্র একদিন ব্যবহারের পরই বাড়ির পাশের পাকা নর্দমার নোংরার ভেতরে এত জোরে ছুঁড়ে মেরেছিলো বোতলটা যে, সেই বোতলের আঘাতেই নর্দমার সিমেন্ট চটে গিয়ে এর জবাবদিহি করতে পৌর পিতার কাছে পর্যন্ত সেদিন হাজিরা দিতে হয়েছিলো ওকে। সেই তিতা চিরতা অভিজ্ঞতার কারণে কোবরা নামটার ওপরেই অশ্রদ্ধা এসে গিয়েছিলো ওর তারপর থেকে।

কেনার পর ওই দিনই প্রথম পারফিউমটা শরীরের সবজায়গায় স্প্রে করে বেশ ফাঁট নিয়েই সেদিন কলেজে গিয়েছিলো লেহাজ। ওর বেস্ট ফ্রেন্ড সালসাবিলা ওর কাছে নোটস নিতে এসে ভালো করে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই চোখের পলক ফেলারো অবকাশ দিলো না ওকে। এক হাতে নাক চেপে তড়াক করে এক লাফে দশ গজ পিছিয়ে গিয়ে থুথু ফেলতে ফেলতে বমি করার দশা প্রায়!

নামেই সালসাবিলা। সবদিক থেকেই আবার খাল খাবো খাবো ছেলেদের মতো চলাফেরার গতিক ধরণ সেই সালসাবিলা নামধারিনী জিনিসটার। স্কিন টাইট জিন্স আর টপস পরে বিনা দ্বিধায় ঘোরাফেরা করে মফস্বল শহরের কলেজে। কলেজ ফিল্ডে বসে ছেলেদের মুখ থেকে অবলীলায় থুতু মাখানো এঁটো বিড়ি কেড়ে নিয়ে একটানে অর্ধেকে নামিয়ে বুকের ভেতর আটকে রাখা ধোঁয়া দিয়ে কায়দা করে বিড়ির ধোঁয়ার রিং ওড়ায় বাতাসে!

সেই ডাকাবুকো সালসাবিলা সেদিন ওই ভঙ্গিতে দশ গজ দূরে গিয়ে লাফিয়ে পড়ে ওখানে দাঁড়িয়েই মুখ বিকৃত করে খিস্তি খেউড়ের দূর্গন্ধযুক্ত জলের বন্যায় ভাসিয়ে দিতে লাগলো লেহাজকে। ‘শালা গাঁইয়া ধুর! রাতে মরা ছুঁচোর সাথে পিরিত করে এসেছিস নাকি? কোবরা জাদীর কাছে হুড়কো গিলে পাত্তা পাচ্ছিস না মনে হয়! এই ব্যাটা ছেলে জাতটা এই জন্যেই দুই চোক্ষের একুশ আমার বুঝলি? পচা ইদুর ছুঁচো যাই হোক একটা কিছু পাইলেই হয়! মানামানির কারবার নাই! ধড়াম করে বুকের ওপর জাহির হয়ে ঘুমাতে পারলেই শান্তি এদের —‘

আত্মপক্ষ সমর্থনেরও একটু সুযোগ পেলো না লেহাজ। মুখে আনার অযোগ্য নাপাক গালিগালাজে লেহাজকে ওখানেই বিষ ফিট মাটির গর্তে পুঁতে রেখে হনহন করে জিন্সের এক লাগসই ঠুমকা ঝেড়ে উল্টা পথে হাঁটা শুরু করলো লেহাজের ছাল ছাড়ানো খালখাবিলা!

এই তিক্ত অভিজ্ঞতা তো ছিলোই সাথে লেগেছিলো জোঁকের মতো এঁটে থাকা সাপের ভয়। কোবরা অর্থ্যাৎ গোখরো নামের খড়ম আকৃতির ফণাধারি সাপকে ছোট বেলা থেকেই ভয়ংকর রকমের ভয় পায় লেহাজ। শুধুমাত্র সাপ ফোবিয়ার কারণেই কোনদিন ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফি চ্যানেল দেখা হয় নি ওর। খাদিজাতুল কোবরা নামটা মনে হলেই তাই চোখের সামনে ভেসে ওঠতো চ্যাপ্টা মাথার আঁকাবাঁকা ট্যাটুতে ভরা ফণাধারি কোবরার চেহারা! ট্যাটুধারি ভীতিকর গোখরো চেহারায় প্রিয়তমাকে ভাবতে কিছুতেই সাড়া দেয়নি ওর হৃদয়। সালসাবিলার ছুঁচো চরিত্রের দাগী আসামির খেদাবপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতা তো বটেই সাথে এসব আট দশ নানাবিধ ভৌতিক কারণে খাদিজাতুল কোবরার রূপ সৌন্দর্যের সাথে জুতসই এই নামটাকেই অনেক চিন্তাভাবনার পর শেষ পর্যন্ত যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছিল ওর কাছে। কখনো ‘নুর ‘নয়তো ‘দিল’ অথবা ‘হুসনে জিগর’ -যখন যেটা ডাকতে খায়েশ জাগে দিলে সেই নামেই তারপর থেকে নির্ভয়ে ডাকে ও ওর জানেমান কে।

নামের প্রভাবেই সম্ভবত লজ্জা হায়া স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশিই ওর। রাস্তায় শর্টস পরা মেয়ে দেখলেই লজ্জায় আপনা থেকেই মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ে ওর মাথা। ওর জীবনে GF প্রজাতির জীব জুটতেও এতটা সময় লেগেছে শুধুমাত্র ওই একটা কারণে। নুর-ই দিল হুসনে জিগরের সাথে এই যে ক্র্যাশ খাওয়াখাওয়ি -এর নেপথ্যে অগ্রগামী ভূমিকা পালনের কৃতিত্বটা সবসময়ই হুসনে জিগরকেই দিয়ে থাকে লেহাজ। প্রেমের মাঝেও যথারীতি এই আখাইসটা নামটাই আইড় মাছের কাঁটার মতো আড়াআড়িভাবে গেঁথে আছে লেহাজের গলার মাঝ বরাবর। ভালোবাসার কাব্যিক ভাষাগুলো শত চেষ্টাতেও গলার কাছ থেকে মুখ পর্যন্ত টেনে উঠিয়ে আনতে পারে না লেহাজ। লজ্জায় মরে যেতে যেতে গলার কাছে থেকেই বাণীগুলোকে গিলে পেটের ভেতরে চালান করে আদব লেহাজের পর্দার আড়ালে বুকের ভেতর ভালোবাসার ঝড় তুফান সহ্য করে বাহ্যিক চেহারায় বয়রা রূপ ধরে বসে থাকতে হয় ওকে নিশ্চুপে। ওদিকে নুর-ই-দিল হুসনে জিগরের মুখ আবার ততটাই আদব লেহাজের ধারধারানাবিহীন। বেপর্দা মুখে এমন এমন সব অসম্ভব প্রস্তাব এতটাই ঝরঝরে সাবলীল গতিতে বয়ে যেতে থাকে -যার সামনে টিকে থাকতে গিয়ে কালবৈশাখীর বন বাদাড় গুঁড়ানো ঝকাসের সামনে খড়কুটোর টিকে থাকার অহেতুক যুদ্ধের মতোই প্রতিবারই খড় কুটোর ভূমিকাটায় বেছে নিতে হয় লেহাজ কে। বিস্তৃত ক্ষেতের মাঝে দাঁড়িয়ে কালবৈশাখীর দুনিয়া উড়িয়ে নেয়া ঝড়ের তোড়ের মুখে কুটোকাটার মতো লেহাজেরো টেকা সম্ভব হয়ে ওঠে না শেষ পর্যন্ত। আদব লেহাজের উৎকট তাড়সে বরাবরই প্রাণটাকে হাতে ধরে কোনক্রমে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে থাকে ও।

শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে নিবিড় নীরব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে উছলে পড়া মনোরম একটা জায়গা খুঁজে নিয়েছে ওরা ডেটিংয়ের জন্য। মাইলের পর মাইল শুধু শস্যক্ষেত বিস্তৃত থাকায় প্রায় জনমানব শূণ্যই বলা যায় জায়গাটাকে। ক্ষেতে কর্মরত জনমজুরেরা বিকেলের আগেই ফিরে যায় নিজ নিজ গৃহে। এরকম নয়ন প্রাণ জুড়ানো প্রাকৃতিক পরিবেশে বিনা কষ্টেই চাওয়ার আগেই ভালোবাসার ফুলঝুরিগুলো বুদ্বুদের মতো আপনা থেকেই উঠে আসে লেহাজের হৃদয়ের ঘরে। কিন্তু ওই যে লেহাজ- এই নামটাই রসকষহীন ছিবড়ে বানিয়ে দিলো ওর জীবনটাকে।

দীর্ঘদিন একটানা করেন্টাইন পালন করতে গিয়ে হাঁপিয়ে পড়েছিলো ওরা দুজনেই। হুসনে দিলের বুদ্ধিতেই বাড়ির সবার চোখে মাস্ক পরিয়ে আজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলো ওরা দীর্ঘ বিরহের পর। এতদিনের বিরহী দিলবারজানি তাই হৃদয়াবেগ সামলাতে না পেরে ওর বুকের ওপর একরাশ রেশমি চুল ছড়িয়ে দিয়ে মুখ লুকানোর আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছিলো লেহাজের অতি সুভদ্র লেহাজি বুকটাকে। বুকের ওপর পেত্নীর আছর হলেও হয়তো অতটা ভয় পেতো না লেহাজ। শ্যাওড়া গাছের স্বয়ং মাসী পেত্নিটাকে যেনো নিজের বুকের ওপর গড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলো ও। হুসনে জিগারের মুখটা খরখরে নিষ্ঠুর হাতে সাপ ঝেড়ে ফেলার মতোই সর্বশক্তিতে সরিয়ে দিয়ে বারো গজ দূরে গিয়ে ছিটকে পড়লো লেহাজ। লেহাজের নিষ্ঠুর বেয়াদবিতে নিজের কোবরা নামের শব্দগত অর্থটা ঠিক রাখতে জিভের সবটুকু বিষ ওর বিষে জর্জরিত বুকের ওপর পুনপুন ছোবলের মাধ্যমে ছ্যাড়াব্যাড়া করে দেয়ার সাথে সাথে ওর পুরুষত্বের ব্যাপারেও জঘন্য ধরণের মিথ্যা সন্দেহ উত্থাপন করতে বাকি রাখেনি আজ ওর নূর -ই দিল। লেহাজের ভালোবাসা পীড়িত হৃদয়টাকে সাত টুকরায় ভাগ করে সারাজীবনের মতো ব্রেকাপের গর্জনকারি ঘোষণায় আকাশ বাতাস বিদির্ণ করে প্রথমে নিজে টা টা বাই বাই দিয়ে ওর কাছ থেকে চিরবিদায়ী হয়ে তারপরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় লেহাজকে আজ বিদায় নিতে বাধ্য করেছে ওর হৃদয়ের রানী।

যদিও সন্ধ্যা সাতটা আটটার পর বাড়ির বাইরে থাকার ব্যাপারে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা আছে ওদের বাড়িতে-আর এখন তো করোনার কারণে বাড়ির বাইরে পা ফেলায় পুরোপুরি নাজায়েজ-তারপরেও ভয়মুক্ত চিত্তে আজ সেই নিষেধাজ্ঞার মুখে ঝামা ডলে পাথর মুখে বাড়ি থেকে বেশ অনেকটা দূরে এই রাতের অন্ধকারে একটা বিশাল বট গাছের বাঁধানো বেদির ওপর বটগাছের ঝুড়িতে শরীর এলিয়ে বোধশক্তিহীন পড়ে আছে লেহাজ সেই বিকেলের পর থেকে। কখনো নামের দূর্ভোগে চোখে জল আসছে তো একই সাথে এই নাম রাখার জন্য গরগরে রাগে গোখরোর মতোই ফুঁসছে ও বুড়ির ওপর। ফোঁসফোঁসানি আর চোখের জল নিয়েই একটা এসপার ওসপার সিদ্ধান্ত নিতে শক্তিহীন শরীরটাকে বটের ঝুড়ি থেকে কোনরকমে মুক্ত করে বাড়ির উদ্দেশে হাঁটা ধরলো লেহাজ। হন্টনরত অবস্থায় প্যান্টের পকেটে মোবাইল বেজে উঠতেই মোবাইল বের করে কলারের নাম দেখে আরো চিড়বিড়ে রাগের বেগে ঘাম ঝরতে লাগলো ওর সর্বশরীরে। প্রথমবার রাগী হাতে টিপ মেরে কল কেটে দেয়ার সাথে সাথে আবারো বেজে উঠলো মোবাইল। বুড়িকে সাইজ করার জন্যই এবার কল রিসিভ করলো লেহাজ। লেহাজের মুখ থেকে বাকস্ফূর্তির আগেই ওদিকে বাজখাঁই গলায় খনখনে চেল্লানির আওয়াজ তীরবেগে ছুটে এসে খানখান করে দিলো ওর কানের পর্দা। সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ঝাড়া তো বহুত দুর কি বাত, উল্টে কান বাঁচাতে নিজের কানেই হাত চাপা দিতে পথ পেলো না ও বুড়ির গোলা বারুদের মুখের সামনে পড়ে। আতশবাজির তুবড়ির আগুন ছুটছে যেনো বুড়ির মুখ থেকে।
‘ অই নির্লজ্জ ধাড়ি কোথাকার! করোনার যেটুকু হায়া পট্টি আছে, সেটুকুও তো তোর নাই দেখছি ! এই সময়েও বাঙালির চুরি চামারি ফুটানি আর ঈদের কোলাকুলির বেহায়াপনাতে করোনাও যেখানে লজ্জায় ঘেন্নাপিতে, মরমে মরে এ দেশ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে- সেখানে তুই! নাহ্! যে কারণে তোর নামটা রাখা, সেটাও যে পুরোপুরি ভেস্তে দিবি তুই, চিন্তাও করিনি কখনো! যেখানে ঘরে থাকার জন্য লাঠি চার্জ করে ছাগল গরু খোয়াড়ে ঢোকানোর মতো করে হায়া শরমহীন এই বেলেহাজী জাতকে ঘরে ঢুকতে বাধ্য করছে পুলিশ -সেখানে তোর মতো শিক্ষিত সচেতন ছেলে এই রাত দুপুর পর্যন্ত টো টো করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মরছিস কোন আক্কেলে? তুইই যদি বাইরে থেকে করোনার ভাইরাস গায়ে মেখে বেড়াস,তাহলে খামোখা কেন বাইরের লোককে গালিগালাজ করে অযথা পাপের ভাগি হচ্ছি আমি? পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘরে ঢুকবি বলে দিলাম! ঠিক পাঁচ মিনিট পর তোর রুমে গিয়ে যেনো দেখতে পাই তোকে! কেন তোর নাম লেহাজ রেখেছি জানার খুব কৌতূহল তো তোর? লেহাজের সাত কাহন আজ নিজের মুখে শোনাবো তোকে! বাড়িতে ঢোক তো আগে! ‘

১৮০ কি,মি বেগে ‘তেজ- মণি বুড়ি ১৮০’ নামের উগ্রবাদী সাইক্লোনে লেহাজের মাথাটা পুরোপুরি উড়িয়ে নিয়ে কবোন্ধ অবস্থায় ওকে ফেলে রেখেই ঝকাং শব্দে ফোন কেটে দিলো বুড়ি! নিজেকে যেনো পরিষ্কার চোখে শাঁখের করাতের মাঝখানে গলা অবধি ঢোকানো অবস্থায় প্রত্যক্ষ করলো লেহাজ। পাঁচ মিনিট পার হওয়া মানেই রবি সিমের ঘ্যাঁচাৎ অফার! অগত্যা প্রাণ বাঁচাতে কে যেনো পেছন থেকে দাবড়ানি দিয়ে দৌড় করাতে বাধ্য করলো ওকে !

#শেষ হইয়াও হইলো না শেষ!
শেষ করতে আরো দু’ এক পর্ব জুড়তে হবে মনে হচ্ছে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 20121 deshsangbad24.com

প্রযুক্তি সহায়তায় : একাতন্ময় হোস্ট বিডি