1. admin@deshsangbad24.com : admin :
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন উপকূলে ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যবহারে হুমকিতে ছোট মাছ; বিপুলসংখ্যক জাল আটক করে ধ্বংস

প্রথম নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩৬৭ জন দেখেছে

দেশের বিভিন্ন উপকূল এলাকায় ‘চায়না দুয়ারি’ জাল। মরণফাঁদ নামের এই জালে একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না মাছ। চলতি পথে নানা জলজ প্রাণী ঢুকে পড়লেও নিশ্চিত মৃত্যু। দেশের উত্তরবঙ্গের নদ-নদী এবং পদ্মা-মেঘনার অগভীর তীরে এ জালের দেখা মিললেও এখন তা পৌঁছেছে দক্ষিণের সাগর পাড়ে।

সমুদ্র মোহনায় থাকা নদীগুলোর অগভীর পানিতে ব্যাপক হারে বাড়ছে এ জালের ব্যবহার। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মাছসহ নানা জলজ প্রাণী। সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জালের পদ্ধতিটাই এমন যে স্রোতের টানে সব ধরনের জলজ প্রাণী ঢুকে যাবে এতে। বর্গাকৃতি লোহার খাঁচায় আটকে হারাতে হবে প্রাণ।

কম দাম এবং বেশি মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে এই জালের জনপ্রিয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেন্ট জালের চেয়েও মারাত্মক এই জাল। এর ব্যবহার বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের মৎস্যসম্পদ। বিলুপ্তি ঘটবে নানা জলজ প্রাণীর।

বছর দুই আগে বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হয় চায়না দুয়ারির। প্রথম দিকে পদ্মা-মেঘনাসহ উত্তরবঙ্গের নদ-নদীতে দেখা যেত এগুলো। চায়না থেকে আসা সূক্ষ্ম ফাঁসের নেট দিয়ে তৈরি হয় এ জাল। ১শ থেকে দেড়শ ফুট লম্বা এই জালের প্রস্থ সর্বোচ্চ দেড় ফুট। দেখতে অনেকটা মোটা পাইপের মতো এই জালের দেড় দুই ফুট পরপর থাকে চার কোনা অথবা গোল লোহার ফ্রেম। এই ফ্রেমের সঙ্গে আবার একমুখী ফাঁদ।

পাইপ সদৃশ জালের ভেতরে ঢোকার পর এসব ফাঁদ পার হয়ে জালের শেষাংশে চলে যায় মাছ। লোহার ফ্রেমের সঙ্গে থাকা ফাঁদগুলো এমন পদ্ধতিতে তৈরি যে একবার এই ফাঁদ পার হলে পেছনে ফেরার উপায় থাকে না।

বরগুনার পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, ‘কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর এই জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে এর ভেতরে মাছের রেনু পোনা পর্যন্ত আটকে যায়। সেই সঙ্গে আটকা পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী। এককথায় পানি ছেকে সবকিছু নিয়ে আসে এই জাল।’ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে প্রচলিত জালের মধ্যে যেগুলো নিষিদ্ধ তার তালিকায় এখনো আসেনি চায়না দুয়ারি। অসাধু জেলেরা এই সুযোগটিই ব্যবহার করছে। দাম কম এবং নদী তীরের কম পানিতে পাততে হয় বিধায় জেলে ছাড়াও নদীর পাড়ে বসবাসকারী অনেক সাধারণ মানুষও এখন এই জাল কিনে মাছ ধরছে। দিন দিন বাড়ছে এই জালের ব্যবহার। যাতে করে ধ্বংসের মুখে পড়ছে মৎস্যসম্পদ।’

বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সমুদ্র তীরবর্তী বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার প্রায় সব এলাকাতেই এখন দেদার ব্যবহার হচ্ছে ‘চায়না দুয়ারি’। বিশেষ করে সাগর মোহনার নদীগুলোর অগভীর অংশ এবং নদী থেকে ঢোকা খালের মুখে। সরেজমিন এরকম অসংখ্য জাল পাততে দেখা গেছে বরগুনার তালতলির জয়ালভাঙ্গা, বগি বাজারসংলগ্ন স্লুইচ গেট, পাথরঘাটার চরদোয়ানী স্লুইচ, বাঁশবুনিয়া এবং বুকাবুনিয়া এলাকায়।

জয়ালভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আলী কদম ব্যাপারী বলেন, ‘নদীতে জোয়ার আসার সময় জোয়ারের দিকে মুখ করে পাতা হয় এসব জাল। জোয়ার শেষে ভাটা শুরু হলে তুলে নেওয়া হয় তা। শুধু নদী নয়, নদী থেকে যেসব খাল জনবসতির দিকে গেছে সেসব জায়গাতেও এই জাল পাতে জেলেরা।

পুরো তালতলী জুড়েই মিলবে এরকম অসংখ্য জাল পাতার দৃশ্য।’ বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোনো নদী খাল পাওয়া যাবে না যেখানে চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয় না। অনেক জেলে যারা আগে নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরত তারাও এখন এই চায়না দুয়ারির জেলে। তাছাড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা যায় একেকটা চায়না দুয়ারি জাল। ফলে সহজেই তা কিনে নদীতে ফেলতে পারছে সবাই।’

নদী ও মৎস্য গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইমেজ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক হাসান আবিদুর রেজা বলেন, ‘আমাদের দেশে এমনিতেই এখন অস্তিত্ব বিলোপের মুখে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ। এসব মাছ মূলত বিচরণ করে নদী-খালের অগভীর অংশে। চায়না দুয়ারি যেহেতু অগভীর পানিতে পাতা হয় তাই অস্তিত্বের সংকটে থাকা এসব ছোট মাছই ধরা পড়ে এই জালে।

সূক্ষ্ম ফাঁসের হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাছের পোনা এবং নানা ধরনের জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে এই জালে। জেলেদের যেহেতু লক্ষ থাকে শুধু মূল্যবান মাছের দিকে তাই তীরে উঠার পর ওইসব পোনা এবং জলজ প্রাণী ফেলে দেওয়া হয় শুকনো ডাঙ্গায়। ফলে এগুলো মারা যায়। এর আগে যখন উপকূলে নেট জালের মাধ্যমে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনা শিকার হতো তখনও এরকম সংকটে পড়েছিলাম আমরা।

অবশ্য এখন সেটা অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু নতুন করে এই চায়না দুয়ারি জাল এসে আবারও সেই আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে। ছোট ছোট প্রজাতির মাছ এবং মাছের রেনু পোনা মূলত নদী তীরের অগভীর পানিতেই থাকে। সেই জায়গায় এরকম ভয়ানক জাল পাতা মানে পুরো মৎস্যসম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এখনই এটা বন্ধ করা না গেলে দেশের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির মাধ্যমে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।’

সাগর পাড়ের নদ-নদীর মোহনাই শুধু নয়, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার প্রায় সর্বত্রই এখন ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারি। যার প্রমাণ মিলেছে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদারের বক্তব্যে। চায়না দুয়ারি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গেজেটে নাম থাকুক বা না থাকুক, মৎস্য আইনে এই জাল নিষিদ্ধ। এর প্রস্তুত পদ্ধতি এবং জাল ফার্মের যে ফাঁকা তা আইন সিদ্ধ নয়। এরইমধ্যে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় এই জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি আমরা।

বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া থেকে বিপুলসংখ্যক জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে অগভীর বিল এলাকায় বেশি সংখ্যায় ব্যবহার হচ্ছে এই জাল।’ উপকূলীয় নদী এবং নদী মোহনায় এ জালের ব্যবহার রোধে কি কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানেই এই জালের ব্যবহার হচ্ছে বলে খবর মিলছে সেখানেই অভিযান চালাচ্ছি আমরা।

তবে যেহেতু জেলেরা সংখ্যায় কয়েক লাখ সেখানে আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে সবক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে সবচেয়ে যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে জনসচেতনতা। সে দিকটাতেও জোর দিয়েছি আমরা। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পুরো দক্ষিণ উপকূল থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর এ জাল বিলুপ্ত করে দিতে পারব আমরা।’

সংবাদ টি শেয়ার করে সহযোগীতা করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Tags

এবার প্রাথমিক ডিম-দুধ-মৌসুমী ফল খাওয়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে কংগ্রেসে ভাঙন: মমতা ঘোলা জলে 'বড় মাছ' ধরার চেষ্টা করছেন কাবুলের মসজিদ বিস্ফোরণে দুইজন নিহত কুরআনের মানুষের অধিকার কি? কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা প্রতি কেজি আলুর ভর্তুকি চান ৯টাকা খুলনায় পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে জাপানিদের বাড়ির বাইরে ভ্রমণের জন্য লাগবে টিকা সনদ জিমেইল সুরক্ষিত রাখতে যা করতে হবে ঝাল বেড়েছে সবুজ মরিচে ২৪০ টাকা কেজি! তিনজন আহত দলে ফেরার পর সাকিব বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে শক্তিশালী ছিলেন নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারকে পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অনুমতি পাকিস্তানি তালেবানদের শান্ত করার জন্য ইমরানের উদ্যোগ পিকআপ সিটের পিছনে ৩৮ কেজি গাঁজা পাওয়া গেছে বিএনপি চোখ হারানো নেতা শাহজাহানের সঙ্গে ফখরুলের সাক্ষাৎ বিবর্ণ মোস্তাফিজ; চেন্নাইয়ের ১৮৯ রতুরাজের সেঞ্চুরি ব্রিটিশ আমেরিকান তামাক: গবেষণা ক্ষতিকর তামাকের প্রচারের দিকে পরিচালিত করে ভিপি নূরকে 'অনৈতিক' বলার কোন প্রমাণ নেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে করোনা ইউনিটে আরও ৮ জনের মৃত্যু মাঝ আকাশে বিমান-হেলিকপ্টার সংঘর্ষে দুইজন নিহত মেয়র আতিক উচ্চশিক্ষায় গবেষণার গুরুত্বের প্রতি আহ্বান জানান যাত্রাবাড়ীতে বর্জ্য ব্যবসার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ রাজধানীর একটি বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু রাজধানীর কুড়িলে ট্রেনের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে আগুন রিং আইডির সাইফুল দুই দিনের রিমান্ডে রিয়েলমি জিটি মাস্টার হল দেশের প্রথম স্ন্যাপড্রাগন ৭৭৮জি ৫জি প্রসেসর লিবিয়া ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিসহ ৫০০ অভিবাসীকে আটক শতভাগ প্রবীণ নাগরিক ভাতার আওতায় আসবেন শ্যামনগরে সবজি বাজার সুরক্ষার দাবিতে মানববন্ধন সবাইকে বাঙালিয়ানা চর্চা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে: ইনু সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেখ রাসেল দিবস পালিত হয়েছে সাতক্ষীরায় র‌্যাব-৬ এর অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী আটক সাতক্ষীরায় সবজি উৎপাদন কৌশল সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল প্রতাপনগরের মানুষ ভাসমান সেতু পেয়ে খুশি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর আধুনিকায়ন বিষয়ে মতবিনিময় সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান বলেন; বিচার বিভাগ অন্ধকারের বিরুদ্ধে ভোরের সূর্য সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকে কোম্পানীর সেই সাইনবোর্ড বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের প্রতিবাদে অপসারণ সাতক্ষীরায় আ.লীগের বর্ধিত সভায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তালিকা নিয়ে হট্টগোল! সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২ সাতক্ষীরায় বিজিবি'র অভিযানে ২৫ পিস স্বর্ণের গহনা আটক সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস সাতক্ষীরায় র‌্যাব-৬ এর অভিযানে সেনাবাহিনীর এক ভূয়া সদস্য আটক সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে বাঘের চামড়া উদ্ধার ৪০ দিন জামাতে প্রার্থনা করলে কি লাভ?
© All rights reserved © 2023 দেশ সংবাদ ২৪
প্রযুক্তি সহায়তায় রিহোস্ট বিডি